ছবি: ফাইল ছবি
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ নামে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার তৃতীয় আসামি হলেন-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’র (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
এর আগে, ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টে অবৈধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাদের প্রভাব খাটিয়ে বিএবি’র নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিবিধ আলোচনায় বিষয়টি উপস্থাপন করে নির্বাহী কমিটির সভার মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এ অর্থ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ অনুকূলে অর্থ প্রদানের জন্য পরিমাণ উল্লেখপূর্বক ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তহবিল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার ও ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর-এর অর্থ ব্যয়ের নির্দেশনা দেওয়া আছে। ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার কোনো নির্দেশনা ওই গাইডলাইনে উল্লেখ নেই।
দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কোনো কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানও নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থাটির সভাপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার প্রতিশ্রুত কোনো কার্যক্রম পাওয়া যায়নি।
মামলার অভিযোগে আরও জানা যায়, শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা প্রতিশ্রুত ট্রাস্টের কোনো কার্যক্রম না করেই বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও চাপ প্রয়োগ করে অপর আসামির সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ অনুকূলে তহবিল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেন।
বিএবির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার দায়িত্বে থাকাকালে অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে অর্থ প্রদান করা হয়। বিএবি’র নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিবিধ আলোচনায় উপস্থাপন করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ওই ট্রাস্টে অর্থ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর-এর অর্থ প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী সিএসআর ফান্ডের টাকা ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার কোনো নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও নজরুল ইসলাম মজুমদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে ৪১টি ব্যাংকের মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ট্রাস্টে প্রদানে বাধ্য করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন।