ছবি: সংগৃহীত
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান এনডিসি বলেন, “দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোতে অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং সেই সাথে প্রশিক্ষণের মান ও যোগ্যতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।”
বৃহস্পতিবার ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমিগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেরিন একাডেমির প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নৌপরিবহন সচিব মেরিন সেক্টরের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় জানানো হয়, এবার মেরিন একাডেমিগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন ও প্রক্রিয়াকরণসহ সর্বমোট চার্জ ১৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, “আমাদের সন্তানদের জন্য টেকনিক্যাল কাজের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। আর এর মূল চাবিকাঠি হলো আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা।”
একাডেমি প্রধানদের উদ্দেশ্যে নৌপরিবহন সচিব বলেন, আপনারা যাদেরকে ভর্তি করবেন, তাদেরকে অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণের মান ও যোগ্যতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।
তিনি বলেন, ক্যাডেট ও ক্রুদের কোয়ালিটি বা মান এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) সকল নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিশ্ব দরবারে সাড়া ফেলতে পারে।
নৌপরিবহন সচিব স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই সেক্টরকে আরও বেশি উন্নত করতে হবে। আমাদের প্রধান দায়িত্বই হলো দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের নাবিক তৈরি করা, যারা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। এজন্য তিনি প্রতিটি একাডেমিকে কঠোরভাবে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত একাডেমি প্রধানগণ সচিব মহোদয়ের এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মেরিন সেক্টরকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।