ঢাকা
০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণদের সক্রিয় থাকার আহ্বান আলী রীয়াজের একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ ফোন বন্ধ, নতুন করে চালু হচ্ছে এনইআইআর শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন: এমপি বরকত উল্লাহ বুলু গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম
Advertise with us

নামাজে সাপ বা ক্ষতিকর প্রাণী দেখলে করণীয়

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬   ২৯ বার পঠিত
নামাজে সাপ বা ক্ষতিকর প্রাণী দেখলে করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম ডেস্ক :নামাজে দাঁড়িয়ে আছেন। মনোযোগ দিয়ে কিরাত পড়ছেন। হঠাৎ চোখে পড়ল সামনে একটি সাপ! মুহূর্তেই ভয় পেয়ে যেতে পারেন। নামাজ ভেঙে ফেলবেন, নাকি নামাজ চালিয়ে যাবেন? সাপটি যদি আপনার দিকে এগিয়ে আসে, তখন কী করবেন? ইসলাম এ পরিস্থিতিরও দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

নামাজের মধ্যে সাপ-বিচ্ছু হত্যা করা যাবে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নামাজের মধ্যেও তোমরা কালো সাপ ও বিচ্ছু হত্যা করো।’ (সুনান আবু দাউদ: ৯২১)

অর্থাৎ নামাজরত অবস্থায় সাপ বা বিচ্ছু দেখা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে হত্যা করা যাবে। এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।

কারণ এগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর প্রাণী। নামাজের মধ্যেও এগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করার অনুমতি রাসুলুল্লাহ (স.) দিয়েছেন।

কতটুকু নড়াচড়া করা যাবে?

প্রাণীটি যদি এমন জায়গায় থাকে, যেখানে সামান্য নড়াচড়ায় সেটিকে সরিয়ে দেওয়া বা মেরে ফেলা সম্ভব, তাহলে নামাজ চালু রেখেই তা করা যাবে। যেমন, সাপটি পায়ের কাছে চলে এসেছে। আপনি এক পা সরিয়ে নিরাপদে যেতে পারছেন বা সামান্য নড়াচড়ায় সেটিকে দূরে সরিয়ে দিতে পারছেন- তাহলে এতটুকুই যথেষ্ট।

নামাজের মধ্যে অল্প ও প্রয়োজনীয় নড়াচড়া সাধারণত নামাজ নষ্ট করে না। তবে এমন অতিরিক্ত নড়াচড়া, যাতে দূর থেকে দেখলে মনে হয় ব্যক্তি নামাজে নেই, তা নামাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থগুলোতেও বলা হয়েছে, নামাজের মধ্যে সাপ বা বিচ্ছু হত্যা করলে নামাজ নষ্ট হয় না। তবে তা করতে গিয়ে যদি নামাজের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে হয় এবং এর ফলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে পরে ওই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া)

সাপটি যদি আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে?

সাপটি যদি আপনার দিকে এগিয়ে আসে এবং ছোবল দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সম্ভব হলে নামাজের মধ্যেই সেটিকে সরিয়ে দিন বা মেরে ফেলুন। তবে পরিস্থিতি এমন হলে যে নিরাপদ হতে ব্যাপক নড়াচড়া করা, সরে যাওয়া বা সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, তখন নামাজ থামানো জায়েজ। নিরাপদ হওয়ার পর নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।

অর্থাৎ নামাজ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেকে বিষাক্ত প্রাণীর সামনে ফেলে রাখা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।

শুধু সাপ-বিচ্ছুই নয়

হাদিসে বিশেষভাবে সাপ ও বিচ্ছুর কথা এসেছে। কারণ এগুলো মানুষের জন্য সরাসরি ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই মূলনীতিতে অন্য কোনো ক্ষতিকর প্রাণীও যদি বাস্তব বিপদের কারণ হয়, তাহলে তা থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তবে নিরীহ কোনো প্রাণী দেখলেই নামাজের মধ্যে সেটিকে তাড়ানোর প্রয়োজন নেই। যেমন একটি ছোট পিঁপড়া বা নিরীহ পোকা কোনো ক্ষতি না করলে নামাজ চালিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

নামাজে ভয় পেলে

সাপ দেখলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তবে ভয় পেয়ে হঠাৎ দৌড় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে পরিস্থিতি বুঝুন- প্রাণীটি কোথায়, কতটা কাছে এবং আপনার জন্য বাস্তব কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না। ঝুঁকি না থাকলে নামাজ চালিয়ে যান। ঝুঁকি থাকলে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু নড়াচড়া করে নিজেকে নিরাপদ করুন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us