ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের বহুল আলোচিত হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে স্থাপন করা নতুন দানবাক্সগুলো তৃতীয়বারের মতন খোলা হচ্ছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে উন্মুক্তভাবে এ গণনা শুরু হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মাজার ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্হায়ী স্বচ্ছতা কমিটির সদস্য সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন,শনিবার সকাল থেকে উন্মুক্তভাবে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। গণনা শেষে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ সবার জন্য প্রকাশ করা হবে।
শাহ্জালাল (রহ.)এর মাজারে উন্নয়নমূলক সরকারি কাজে মাজার কর্তৃপক্ষ ৫কোটি টাকা দিয়ে উন্নয়নে আর্থিক অংশগ্রহণ করতে না পারায় গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)গণের মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতার হিসাব জানতে চান।মাজার কর্তৃপক্ষ হিসাব দিতে না পারায় তারই নির্দেশে ১৮ জুন মাজারে দানের ডেগগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা করেন তিনি। এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক বসে।বৈঠকে মাজার পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।কমিটিতে মাজারের খাদেম,মাজার সংলগ্ন মাদরাসাও মসজিদ এবং সিলেটের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ একমিটির সদস্য মনোনীত হন।
ডিসি কর্তৃক
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় উন্মুক্ত পরিসরে তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।
এবার দ্বিতীয় দফার গণনার ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছে। গণনা শেষে এবার কত টাকা পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।