ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’ আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই হেরিটেজ রানে এক হাজারের বেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন। রুটটি কাকরাইল, রমনা, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পলাশি, লালবাগ কেল্লা, শহীদনগর হয়ে সোয়ারিঘাটে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রানারকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ডিএসসিসির এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও পরিচিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, হেরিটেজ রানের মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের নিজেদের শহরকে নতুনভাবে দেখা এবং ঢাকার প্রতি গর্ব ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, কোথাও উন্নত সড়ক, কোথাও ভাঙাচোরা বা কর্দমাক্ত পথ, এটাই ঢাকার বাস্তব চিত্র। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনমান উন্নত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নাগরিকরা যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, প্রতিবছর আরও পরিমার্জিতভাবে হেরিটেজ রান আয়োজন করা হবে। পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, সাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডিএসসিসি জানায়, রাজধানীর ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব চলবে। উৎসবের পরবর্তী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে নাট্যোৎসব, নৌকা বাইচ, হেরিটেজ ক্রুজ, পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’, নাগরিকদের ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি, ঘুড়ি উৎসব, কাওয়ালি, আর্ট ক্যাম্প এবং পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডাসহ নানা অনুষ্ঠান।