ঢাকা
১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে বাড়ছে ৫০০ শয্যা, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের মাটির নিচে কী আছে? বিরল খনিজের খোঁজে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীরা ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, সবজিও এখনো চড়া জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি—মধ্যরাতে রাকিবের ফেসবুক পোস্ট রবিবার কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বে এগিয়ে চলা—ছাত্রদল নেতা আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর এবার ছাত্রদল সেক্রেটারির বার্তা যে কোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা তাপদাহ ও খরায় বিপর্যস্ত ইউরোপ: পানিসংকটে বন্ধ রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
Advertise with us

ইরানের মাটির নিচে কী আছে? বিরল খনিজের খোঁজে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীরা

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬   ১৪ বার পঠিত
ইরানের মাটির নিচে কী আছে? বিরল খনিজের খোঁজে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রেয়ার আর্থ বা বিরল মাটির খনিজের সন্ধানে ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন। চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও তা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ও ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ কর্মসূচির প্রতিটি কর্মশালার জন্য চীনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ইউয়ান বা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। সভা, আবাসন ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতসহ বিভিন্ন ব্যয়ে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে ইরানি ফাউন্ডেশন ইরানি গবেষকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং ইরান সফরকারী চীনা গবেষকদের আবাসন ব্যয়ে সহায়তা করবে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীন ও ইরানের এই সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রেয়ার আর্থ বা বিরল মাটি বলতে ১৭টি ধাতুর একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়। এসব ধাতুর বিশেষ চুম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও রাডারসহ আধুনিক সামরিক এবং ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।

বিশ্বে বিরল খনিজের সবচেয়ে বড় মজুত চীনে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও দেশটি বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল খনিজ-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিদেশে হস্তান্তরের ওপরও নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের সময় চীনের বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ মার্কিন শিল্পে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছিল। এর মধ্য দিয়ে বিরল খনিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে ইরানে কী পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত রয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক গঠনে কিছু লৌহ আকরিক ও ফসফেটের স্তর রয়েছে, যেগুলো বিরল খনিজের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়।

মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় এ ধরনের খনিজের উপস্থিতির সম্ভাব্য চিহ্নও শনাক্ত হয়েছে। তবে এসব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ইরানের সক্ষমতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

চীন ও ইরানের বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৭ সালে। এরপর দুই দেশের মধ্যে গণিত, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা হয়েছে।

২০২৪ সালে দুই দেশের যৌথ কর্মশালা কর্মসূচি শুরু হয়। এবার বিরল মাটি বা রেয়ার আর্থের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণে ন্যানোম্যাটেরিয়াল, দূষণ পর্যবেক্ষণ, ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়েও সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন ও ইরানের এই নতুন উদ্যোগে বিরল খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দুই দেশের বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us