ঢাকা
১৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
এক দিন পরই সচল বড়পুকুরিয়ার ১ নম্বর ইউনিট হেরিটেজ রানে হাজারো নাগরিক, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার আহ্বান তৃতীয়বারের মতন শাহ্জালালের দরগার দানবাক্স খোলা হলো, গণনা শুরু প্রয়াণের পরও নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণার প্রতীক বেগম জিয়া বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশজুড়ে বিএনপি-ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ১৫৮ টাকা
Advertise with us

প্রয়াণের পরও নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণার প্রতীক বেগম জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   ৯ বার পঠিত
প্রয়াণের পরও নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণার প্রতীক বেগম জিয়া

ছবি: সংগৃহীত

পুকুর পাড়ের নিম গাছ, শান বাঁধানো পুকুরঘাট, স্মৃতি জড়ানো চেয়ার-টেবিল। পৈতৃক বাড়িতে সবই আছে। নেই শুধু তিনি, যার স্মৃতি আকড়ে সাজানো এত আয়োজন, নাম যার পুতুল।

বছরখানেক আগেও ফেনীর ফুলগাজীতে এই দিনটির স্মরণে লেগে থাকতো নানা অনুষ্ঠান আর উৎসবের রঙ। সেই বাড়িতে এখন শুধুই নীরবতা। মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মনে ভর করেছে বিষাদ। নানা স্মৃতিতে প্রিয় ‘পুতুল’কে স্মরণ করছেন স্বজনরা।

বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম মজুমদার বলেন, উনি আমাদের মাঝে নেই। ওনার অনুপস্থিতিতে এই জন্মদিন অত্যন্ত হৃদয়বিদারক জন্মদিন।

বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম মজুমদারের বড় ছেলে বলেন, এই বাড়ির প্রতিটি আঙিনায়, কোণায় কোণায় ওনার বিভিন্ন রকমের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম মজুমদারের ছোটো ছেলে বলেন, ফুপির সাথে যখনই দেখা হতো আমাদের, উনি আমাদের পরিবারের সকলের খোঁজখবর নিতেন। যেমন দেশের প্রতি দায়িত্বশীল কর্তব্য পালন করতেন, একই সাথে পরিবার পরিজনের সাথেও উনি সহনশীল আচরণ করতেন।

যার নাম আসলেই মনে ভেসে ওঠে আপসহীন নেত্রীর প্রতিচ্ছ্ববি। সেই নেত্রীর প্রয়াণের পর নেতাকর্মীরা বলছেন, খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন। ছিলেন আবেগ, ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণার প্রতীক।

বিএনপির একজন নেতা তার কথা স্মরন করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কথা আমার বারবার মনে পড়ছে। উনি জেলখানা যাবার পরে আমি দেখা করার জন্য ঢাকাতে গিয়েছিলাম। গুলশান কার্যালয়ে আমি সন্ধ্যা সাতটা বাজে একটা চিঠি দিছিলাম। উনি আসার পরে রাত বারোটা পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করার পরও বলছে, আমার ছেলেটা কই? নিচে আছে নাকি একটু দেখো তোমরা।

অন্য একজন নেতা বলেন, গত বছর উনি এই দিনে বেঁচে ছিলেন। আমাদের আনন্দও ছিল। এখন খালেদা জিয়া বিহীন খালেদা জিয়ার জন্মদিন।

আরেকজন নেতা বলেন, আমরা আসলে অনেক ব্যথিত। কারণ আজকে আমাদের মা আমাদের কাছে নেই।

ফ্যাসিবাদের আমলে ইচ্ছা থাকলেও আড়ম্বরপূর্ণভাবে নেত্রীর জন্মদিন পালন করতে পারেননি নেতাকর্মীরা। আর এখন দল ক্ষমতায় থাকলেও নেই প্রিয় নেত্রী। আর সেই আক্ষেপে দীর্ঘ হয় নেতাকর্মীদের দীর্ঘশ্বাস।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করব এবং আমি আগেই বলেছি যে, তিনি যে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন গণতন্ত্রকে, আন্দোলনকে ঘিরে সেটাকে আমরা ধারণ করার চেষ্টা করব। তার জন্য আমরা দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

দিনটি উপলক্ষ্যে খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত দিনাজপুর ও বগুড়াসহ দেশব্যাপী দোয়া,মিলাদ মাহফিল ও স্মরণসভাসহ নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া আছেন আমাদের সারা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে। খালেদা জিয়া চিরদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের মাঝে। তার কর্মময় জীবন বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে।

গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ, এরপর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী—খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশ ও বিএনপির সংকটময় সময়ে রাজনীতিতে আসেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। গৃহবন্দিত্ব, কারাবাস ও নানা বাধার মধ্যেও তিনি রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যান।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। গণতন্ত্রের আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম নারী সরকারপ্রধান হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন তিনি।

তার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে দেশে আবার সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়। শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারেও তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল।

এরপর ১৯৯৬ সালে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাবাস, গৃহবন্দিত্ব, রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি খালেদা জিয়া।

দেশের বাইরে প্রস্থানের সুযোগ করে দিলেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আর আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা। দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই।”

তার এই অবস্থানই দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাকে চিরকাল ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে।

দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রয়াণ

শেখ হাসিনার শাসনামলে জেল বন্দী দশায় প্রকৃত সময়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানান।

খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ (১৫ আগস্ট) তার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us