ঢাকা
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে আসার আর সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর করার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার, বিরোধীদলকে আলোচনায় আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বুধবার দুর্গাপূজা ও প্রবারণা উপলক্ষে দুই ধর্মাবলম্বীদের জন্য অনুদান বাড়াল সরকার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইতিহাস বলে, পলায়নকারী ফ্যাসিস্ট কোনোদিন ফিরে আসতে পারেনি: আমান উল্লাহ আমান চাঁদাবাজির ‘দোসর’ কারা, পাটওয়ারী দিলেন ৪ মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার নাম ইসিবিতে হামলা, নৈরাজ্যের পাঁয়তারা করছে গুপ্ত দল: প্রশাসক শফিকুল ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৯২
Advertise with us

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর করার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার, বিরোধীদলকে আলোচনায় আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ১৯ বার পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর করার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার, বিরোধীদলকে আলোচনায় আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পদে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঠেকাতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ এটিকে অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি বলে মনে করেন। তবে দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সেই অবস্থান থেকে এখনো সরিনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রবিবার ও মঙ্গলবার দুই দিন গণমাধ্যমের সম্পাদক, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের বার্তা ব্যবস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশেষ কমিটি। এসব আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন। পরে সেগুলো সংসদ বিবেচনা করবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধানে বাংলাদেশকে একক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেভাবেই এগোতে চায়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেবে।

“প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ এটিকে অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি বলে মনে করেন। তবে দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।”

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সভাপতি বলেন, আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটিতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় অংশ নেয়।

তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে সমঝোতার ভিত্তিতে তা আলোচনা করা যেতে পারে। তবে তার জন্য তাদের আলোচনায় আসতে হবে।

ভবিষ্যৎ কার্যক্রম তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক শক্তি, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবে কমিটি। এছাড়া ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গেও শেষ পর্যায়ে বৈঠক করা হবে।

সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী আনা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us