ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য পরিচিত ফ্রান্সে পোপের এই সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেশ লক্ষণীয়। সফর চলাকালে পোপ লিওকে দেখতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সে রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্কের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে গর্ভপাতের অধিকার ও সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু বা ‘অ্যাসিস্টেড ডায়িং’ অন্যতম।
গর্ভপাত ও অ্যাসিস্টেড ডায়িং নিয়ে মতপার্থক্য
ফ্রান্সে গর্ভপাতের অধিকার ২০২৪ সালে সংবিধানে সুরক্ষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জীবনাবসানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সহায়তার বিষয়টি নিয়েও দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
ফরাসি ক্যাথলিক চার্চ উভয় পদক্ষেপেরই বিরোধিতা করেছে। তবে পোপ লিও তার সফরে এসব স্পর্শকাতর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরাসরি জড়িয়ে পড়বেন- এমনটা খুব একটা প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
ফরাসি সমাজে ক্যাথলিক ধর্মের ঐতিহাসিক প্রভাব থাকলেও বর্তমানে দেশটি ইউরোপের অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ফলে পোপের সফরকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ম্যাক্রোঁর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সফর
পোপ লিওর এই সফরকে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যাক্রোঁর মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পোপ ফ্রান্সিস তার দায়িত্ব পালনকালে তিনবার ফ্রান্স সফর করেছিলেন। তবে তিনি কখনও দেশটিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাননি। ফলে পোপ লিওর বর্তমান সফর ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য একটি বিশেষ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পোপকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে ম্যাক্রোঁ একই সঙ্গে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ক্যাথলিক ঐতিহ্যের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফ্রান্সে ক্যাথলিক পরিচয় থাকলেও গির্জায় যান অল্প মানুষ
ফ্রান্সের প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে নিয়মিত ক্যাথলিক গির্জায় যান মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ বলে এএফপির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেন।
অর্থাৎ নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলনের হার কম হলেও ফরাসি সমাজে ক্যাথলিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। পোপের সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহকে তারই একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পোপ লিওর পারিবারিক শিকড়ও ফ্রান্সে
পোপ লিওর ফ্রান্স সফরের সঙ্গে ব্যক্তিগত একটি যোগসূত্রও রয়েছে। তার বাবার দিকের পূর্বপুরুষদের মধ্যে ফরাসি বংশোদ্ভূত মানুষ ছিলেন।
ফলে বিশ্বের অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ দেশে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর শুধু ধর্মীয় ও কূটনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; পোপের নিজের পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গেও এর একটি যোগসূত্র রয়েছে।
চার দিনের সফরে পোপ লিওর বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রান্সে তার এই সফর ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান