ছবি: সংগৃহীত
শুধু ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিবির সভাপতি বলেন, একটা দৈত্য-দানব আমাদের হাত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। নতুন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, যে বাংলাদেশ ইনসাফ আর ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছি, পারিনি। শুধু একটা ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল কোনো পরিবর্তন আমাদের দেশে এখনো ঘটেনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি জানিয়ে শিবিরের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জুলাই চার্টারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করেছিল, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারা একসঙ্গে হয়ে স্বাক্ষর করে হাতে হাত রেখে বলেছিল, জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছিল যে, আমরা জুলাই সনদ নির্বাচিত হওয়ার পর অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। লক্ষ-কোটি মানুষের সামনে তারা যে ওয়াদা রেখেছিল, সেই ওয়াদা তারা বাস্তবায়ন করেনি। তারা জাতীয় মুনাফিক হিসেবে নিজেদেরকে এখন জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই উত্তরবঙ্গেই তারা বলেছিল যে, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন, দয়া করে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন। এমন ভিক্ষা যারা চেয়েছিল, এই ভিক্ষুকের জাতি ক্ষমতায় আসার পরে নিজেদেরকে এখন মুনিব মনে করা শুরু করেছে। কী পরিমাণে ভণ্ড আর প্রতারক এরা। এদের হাতে এখন ক্ষমতা। আমরা বলেছি, আপনারা এই টালবাহানা বন্ধ করেন। জাতি সব বোঝে, তরুণ প্রজন্ম সব বোঝে। আপনাদেরকে কিন্তু লাল কার্ড দিতে একমুহূর্ত দেরি করবে না।
তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি উল্লেখ করে শিবির সভাপতি বলেন, কারণ সংবিধানের এই মৌলিক সংস্কার তারা করতে চায় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অজুহাত দিয়ে তারা ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে, শত শত মানুষ জীবন দিয়েছে, চোখ হারিয়েছে, হাত হারিয়েছে, পা হারিয়েছে, তাদের নেতা ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, তাদের অনেক নেতাকর্মী পঙ্গু হয়েছে, দেশান্তরিত হয়েছে। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা এখন আবার পুনর্বহাল করার মধ্য দিয়ে তারা একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের সে কথা তারা রাখেনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টানা এক বছরের মধ্যে এমন কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেনি। যেই ভায়োলেন্সের কারণে বাইরের মানুষেরা বলতে পারে যে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে অমুক আক্রান্ত হয়েছে। বরং আমরা বলতে পারি, আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ভিপি-জিএস এর গায়ে তারা হাত দিয়েছে, এরপরে তারা হাসপাতালে গিয়ে হামলা করেছে। তারা স্বীকৃত সন্ত্রাসী! তারা হামলা করেছে হাসপাতালের মধ্যে ঘুমন্ত মানুষের উপরে, রোগীদের উপরে। ইসরাইল হামলা করেছিল হাসপাতালের উপরে, ছাত্রলীগ হামলা করেছে, আর তৃতীয় দল হিসেবে ছাত্রদল হাসপাতালে হামলা করেছে।
লংমার্চ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, একটা টেলিভিশন টকশোতে দেখলাম যে, জামায়াত ইসলামী যে লংমার্চ করছে, এটা কি লংমার্চ নাকি লং ড্রাইভ? আলোচনার বিষয় এইটা। এইটা কি আলোচনার বিষয়? আমরা যদি লংমার্চ হোক, লং ড্রাইভ হোক, লং স্লিপিং হোক, লং ওয়াকিং হোক আর লং বসে থাকা হোক-যাই হোক, জিনিসটা তো একটা প্রতিবাদের। প্রতিবাদ তো হচ্ছে-গণঅভ্যুত্থানের রায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ, হত্যা-খুন এগুলা বন্ধ করো- এসব দাবিতে।
রংপুর মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন মন্ডল ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে অনার্স প্রথম বর্ষের ১৮ বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে দুই শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।