ঢাকা
১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি ডিএমপি কমিশনারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৭ম বৈঠক অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ ৬ দফা দাবি সাদপন্থীদের সৌদিগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল, চাকরি হারানোর শঙ্কায় হাজারো প্রবাসীরা অন্য রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া পরিবারের নারীরাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: আমিনুল হক জুলাই গণহত্যার বিচারে অগ্রগতি নেই, চলছে মামলা-বাণিজ্য: হাসনাত সাংগঠনিক ও দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন চরমোনাই পীর দুই বছরের মাথায় পুনর্গঠিত হচ্ছে এনসিপি, নতুন পদ পাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন, হাসনাত, আসিফ ও সারজিস রাষ্ট্রের উদাসীনতায় অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ: সাদিক কায়েম বিএনপিকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক
Advertise with us

গ্রেফতারের আগে পরোয়ানা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৫৫ বার পঠিত
গ্রেফতারের আগে পরোয়ানা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: ফাইল ছবি

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) থেকে তার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারি করে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে সোমবার এ রায় দেন বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রেফতার করা হলে তা আইনের ব্যত্যয় হবে। ভুয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেফতার একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির আদেশ দিয়ে আদালত বলেন, নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর প্রফেশনাল আইডি কার্ডের তথ্য সংযুক্ত রেখে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা ও মহানগর জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম), চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)সহ সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে নির্দেশনা পাঠাতে হবে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আদালতের প্রক্রিয়া ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ভুয়া মামলা বা ভুয়া পরোয়ানার কারণে যে ক্ষতি হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে অপূরণীয়।

শুনানিতে রিটকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১২ সালে গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে একটি ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ভুয়া ছিল এবং সেই মামলার ভিত্তিতেই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

তিনি আদালতকে জানান, পরবর্তীকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুয়া পরোয়ানা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ এবং সাধারণ নাগরিকদের হয়রানির একাধিক ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে রিটটি করা হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন বলেন, বর্তমানে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু রয়েছে। ফলে ভুয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেফতারের সুযোগ অনেকাংশে কমে এসেছে। তিনি রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মামলায় রিটকারী ছিল মানবাধিকার সংগঠন এইচআরপিবি। বিবাদী করা হয় স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, গুলশান থানার ওসিসহ আটজনকে।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ন হোসেন তুহিন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us