ছবি: সংগৃহীত
আগামী আসরের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন বোর্ড সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ আগস্ট জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পরই বিপিএল মাঠে ফেরাতে চান। এতে অবশ্য বিপাকে পড়েছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে যারা নিয়মিত আয়ের জন্য বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ওপর নির্ভরশীল।
জাতীয় দলের নিয়মিত ২০-২৫ জন ক্রিকেটারের বাইরে বড় একটি অংশের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিপিএল ও ডিপিএল। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ডিপিএলের পারিশ্রমিকও কমেছে। ফলে বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বিপিএল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তার প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে চলা বর্তমান কাঠামোর বিপিএল আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট কতটা লাভবান হয়েছে?
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘হাজারো সমস্যা, আর্থিক লোকসান এবং নানাবিধ বিতর্ক জড়িয়ে থাকার পরও কি আগের ফরম্যাটেই বিপিএল আয়োজনের পক্ষ সমর্থন করেন? গত কয়েক বছরে বিপিএল আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কী দিয়েছে? এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়াতে এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিসিবি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন টুর্নামেন্ট চালু করেছে।’
শুধু এক মৌসুমের জন্য কোনোভাবে বিপিএল আয়োজনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটিকে ঢেলে সাজানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
আলমগীর বলেন, ‘বিদ্যমান ফরম্যাটেই বিপিএল আয়োজন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কতটা যৌক্তিকতা রয়েছে? কোনো রকমে কেবল একটি বছরের জন্য বিপিএল আয়োজন করার চেয়ে, সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে এটিকে একটি সঠিক ও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোই হবে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। এরপর আগামী বছরগুলোতে বিপিএলকে একটি সুগঠিত এবং যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত টুর্নামেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হলে, তা নিঃসন্দেহে জোরালো সমর্থন পাওয়ার যোগ্য হবে।’
এদিকে বিপিএল না হলেও ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তার মতে, বিপিএলের বিকল্প পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভব না হলেও ক্রিকেটারদের মাঠে রাখার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
মিঠুন বলেন, ‘বিপিএল না হয়েও যদি অন্য কিছু একটা করে কিছু করা যায়, হয়তোবা শতভাগ বিপিএলের মতো হবে না। তবে আমরা খেলতে চাই। খেলার মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রাপ্য স্যালারি চাই। খুবই ক্রিটিক্যাল একটা বিষয় এটা।’
তবে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য প্রতিবছর বিপিএল আয়োজনের পক্ষেও নন কোয়াব সভাপতি। বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্ত কাঠামোর ওপর টুর্নামেন্টটি দাঁড় করানোর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মিঠুন বলেন, ‘আমরা ডেফিনেটলি একটা উইন-উইন সিচুয়েশনে যেতে চাই। বিপিএল যেভাবে হচ্ছে সেভাবে হওয়া ঠিক না, কারণ প্রপারভাবে একটা বিপিএল আয়োজন করা খুবই জরুরি। এভাবে ভঙ্গুরভাবে প্রতিবছর বিতর্ক নিয়ে টুর্নামেন্ট করা হোক এটাও আমরা চাই না। আর্থিক নিরাপত্তাটা গুরুত্বপূর্ণ।’