ঢাকা
২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো মানুষ অপরাধী সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা উপড়ে ফেলতে হবে : রিজভী পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ড আবেদন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ হ্যাটট্রিক জয়ের পর বাংলাদেশ এইচপির প্রথম হার ক্রান্তিলগ্নে দেশ, চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরানিরা
Advertise with us

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬   ১৬ বার পঠিত
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইজভান্ডারি আশেকানরা বিভিন্ন যানবাহনে করে এসে সেখানে সমবেত হন। সকাল থেকে দলে দলে মানুষকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ গেট থেকে জশনে জুলুস বের হওয়ার কথা রয়েছে। জুলুসটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়ের সামনে দিয়ে ঘুরে আবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হবে। পরে সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে দলে দলে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলো আব্দুল গনি রোডসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। উদ্যানের দক্ষিণ পাশে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সকালে এক পশলা বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন জায়গায় কাদা জমলেও তা উপেক্ষা করে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে জড়ো হন।

জুলুসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। অনেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রশংসায় নাত পরিবেশন করেন। প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে জুলুসে অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের দিন হিসেবে মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনকে ঘিরে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে। মহানবীর জীবনাদর্শ, মানবিকতা, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে জাতীয় রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সুফি স্কলার, পীর-মাশায়েখ, ওলামা, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ সুন্নি সুফিবাদী মানুষের অংশগ্রহণ করেন।

মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, হানাহানি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, হিংসা, প্রতিহিংসা, গীবত ও মিথ্যাচার দূর করতে হলে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

তারা বলেন, অন্য ধর্মের মানুষকে সম্মান করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও মানবিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মহানবীর নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা, ভালো ব্যবহার করা, দয়া-মায়া ও ক্ষমাশীলতার চর্চা করা মহানবীর অন্যতম শিক্ষা। এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ কমে আসবে।

সমাবেশে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও উঠে আসে। লেবানন থেকে আসা এক ইসলামি স্কলারকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বক্তারা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ‘আল ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

পরে ওই স্কলার আরবিতে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাম ও দরুদ পাঠ করেন।

এদিকে রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজার থেকেও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পৃথক একটি জশনে জুলুস বের হয়। শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ জুলুসে হাজারো আশেকে রাসুল ও মুরিদান অংশ নেন। জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন নাত, দরুদ ও স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-কাদেরী, আল-চিশতীর নেতৃত্বে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শাহজাদা শাহসূফী সৈয়দ হোসেইন রাইফ নূরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভাণ্ডারীসহ দরবারের মুরিদান ও আশেকানরা অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us