ঢাকা
০৮ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

আবারও কি বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইয়েমেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬   ১০ বার পঠিত
আবারও কি বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইয়েমেন?

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা গৃহযুদ্ধ কি আবারও বড় আকারে জ্বলে উঠতে যাচ্ছে? দেশটির সরকারি বাহিনীর সামরিক অবস্থানে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় অন্তত ৩০ সরকারি সেনা নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি পক্ষ জানিয়েছে।

দেশটির হাজরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সামরিক শিবির ও সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে স্তিমিত থাকা সংঘাতে এ ধরনের বড় হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেন, তাদের হামলায় ‘শত শত’ মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক সামরিক শিবির ও অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস হয়েছে। তবে হুথি মুখপাত্রের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ব্যাপক সামরিক সমাবেশের প্রস্তুতি শনাক্ত করার পরই হুথিরা এসব হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত উসকে দেওয়া।
তিনি বলেন, হুথি বাহিনী এখন সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক তৎপরতার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

প্রায় এক দশকের সংঘাত কি ফের জ্বলে উঠছে?
ইয়েমেনে বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্ররা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেন সরকারের পক্ষে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।
এরপর কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ সংঘাত চললেও ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে যুদ্ধ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ অনেকটাই কমে যায়।

তবে সংঘাতের মূল কারণগুলোর কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক অবিশ্বাস বজায় রয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার পর দেশটির সরকারপন্থী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শক্তি নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে শুরু করে। একই সময়ে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হুথিরাও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হুথিরা সৌদি আরবের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি দিয়েছে। গত মাসে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও হামলা চালানো হয়েছে।

ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন আর শুধু একটি স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও জড়িয়ে পড়েছে।

শান্তিও নেই, যুদ্ধও নেই- পরিস্থিতির অবসান?
হাজরামাউত ও মারিবে সরকারি বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে ইয়েমেনের সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ‘না শান্তি, না যুদ্ধ’ পরিস্থিতি এবার বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোতে পারে।

সানায় বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী আবদুল রহমান সালেহ বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা এখন আর সাধারণ মানুষের কাছে সম্ভাব্য কোনও হুমকি নয়; বরং বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে আমরা সানার আকাশে বারবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। সংবাদে নিহত ও আহতদের সংখ্যা দেখছি। বিভিন্ন পক্ষ তাদের নিজস্ব গণমাধ্যমে প্রাণঘাতী হামলার সাফল্য প্রচার করছে।”

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির আগের সময়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

“প্রতিটি পক্ষই প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। একজন বেসামরিক নাগরিক হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, এখন এই যুদ্ধ থামাতে অলৌকিক কিছু ঘটতে হবে,” বলেন তিনি।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক গবেষক ফুয়াদ মুসেদ মনে করেন, সরকারি বাহিনীর সামরিক শিবিরে সাম্প্রতিক হামলা থেকে স্পষ্ট যে, হুথিরা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সংঘাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, “হুথিদের বার্তা পরিষ্কার- তারা ইয়েমেনের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি তারা লোহিত সাগরের জাহাজ ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকেও লক্ষ্য করছে। ফলে ‘না শান্তি, না যুদ্ধ’- এই অবস্থার অবসান ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে।”

ফের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগির মতে, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথিদের সীমান্তপারের হামলা বাড়তে থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা এখন আর অমূলক নয়।

তবে তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ এখনও রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি নতুন উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে।

নাগি বলেন, “দুই পক্ষের এখনও সংঘাত নিয়ন্ত্রণের নীতি ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি নতুন উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ তা আরও কঠিন করে তুলছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং হুথিরা হামলা বাড়ালে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পক্ষে থাকা ইঙ্গিতগুলো উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

যুদ্ধই এখন অগ্রাধিকার
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য শেখ ওসমান মাজালি বলেছেন, হুথিদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনে শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন বা জাতীয় ঐক্যের কোনও সম্ভাবনা নেই।

সরকারি ইয়েমেন টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হুথিদের মোকাবিলা করে তাদের ক্ষমতা থেকে সরানো এবং ইয়েমেন ও অঞ্চলটির মানুষের ওপর তাদের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভাষ্যকার সাদ্দাম আল-হুরাইবি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এখন ইয়েমেনে শান্তির আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়েছে এবং বৃহস্পতিবার সরকারি সেনাদের ওপর হুথিদের হামলা ছিল স্পষ্ট বার্তা- ‘যুদ্ধই এখন তাদের অগ্রাধিকার’।

তিনি বলেন, “ইয়েমেনিরা বহু বছর ধরে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে শান্তি চুক্তি বা শান্তির রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিল। এখন হুথিরা প্রকৃত যুদ্ধ শুরু করেছে, যা শান্তির সব সম্ভাবনাকে ভেঙে দিয়েছে।”

আল-হুরাইবির অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শান্তি আলোচনার সময়কে হুথিরা অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছে।

তার ভাষায়, “তারা টানা অস্ত্র তৈরি ও সংগ্রহ করেছে। ফলে এখন তারা স্থানীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি ইসরায়েল ও সৌদি আরব পর্যন্ত হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। যুদ্ধের পথ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।”

সৌদি আরবের ওপরও বাড়ছে চাপ
আল-হুরাইবি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সৌদি আরব হুথিদের শান্তি প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়েছে।

হুথি নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, সানা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৌদি-সমর্থিত কোনও ইয়েমেনি মিলিশিয়া বা সামরিক ইউনিটের উপস্থিতি তারা মেনে নেবে না।

সম্প্রতি হুথিদের ধারাবাহিক উত্তেজনামূলক পদক্ষেপের পরও ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক জবাব না দেওয়ায় সেটিকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে বলে মনে করেন আল-হুরাইবি।

তিনি বলেন, “হুথিদের ইয়েমেনি বাহিনী বা সৌদি স্থাপনায় হামলার জবাবে নীরব থাকাকে কৌশলগত ধৈর্য বলা অর্থহীন। এই অবস্থান অব্যাহত থাকলে তা ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরবের অসহায়ত্বের ইঙ্গিত দেবে এবং জনগণের আস্থা কমিয়ে দেবে।”

মারিবই কি হতে যাচ্ছে পরবর্তী বড় যুদ্ধক্ষেত্র?
বর্তমান সংঘাতে মারিব আবারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রদেশটির সম্মুখসারিতে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছে।

সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আদেল দাশেলা মনে করেন, উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় এই প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য জীবন-মরণের লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, “আজকের উত্তেজনা এবং হাজরামাউত ও মারিবে সরকারি বাহিনীর শিবিরে হামলা থেকে স্পষ্ট যে, হুথিরা মারিবের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে।”

তার মতে, পরিস্থিতিতে বড় কোনও কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে স্থলযুদ্ধ শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনও অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই কম।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হুথিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে কোনও সৌদি সামরিক উপস্থিতি তারা ‘সহ্য করবে না’। তাদের দাবি, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন যেকোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ‘বৈধ অধিকার’ তাদের রয়েছে।

বড় যুদ্ধ হলে আগের মতো হবে না
আদেল দাশেলার মতে, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দিক থেকে হুথিরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। কিন্তু সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।

তিনি বলেন, “সবগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে একযোগে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া হুথিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে সেটি আগের সংঘাতগুলোর মতো হবে না; বরং আরও রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এর অর্থ হলো, নতুন যুদ্ধ শুধু মারিব বা একটি নির্দিষ্ট ফ্রন্টে সীমাবদ্ধ না থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বেসামরিক মানুষের হতাহত এবং বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংযমের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত
হুথিরা নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার বিপরীতে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার এখনও বড় ধরনের সামরিক পাল্টা অভিযানের পরিবর্তে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতিতে অটল বলে মনে হচ্ছে। তবে এই রাজনৈতিক কৌশল তারা কতদিন ধরে রাখতে পারবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, “তারা সামরিক ইউনিট শক্তিশালী করছে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে জোট গড়ে তুলছে এবং সম্মুখসারিতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে। ফলে প্রশ্ন হলো, এই কৌশল তারা আর কতদিন ধরে রাখতে পারবে।”

হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের ওপর আরও কঠোর জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

“সেটি সীমিত সামরিক অভিযান হবে, নাকি কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে- তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আরও বেশি সময় ধরে সংযত থাকার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে,” বলেন নাগি।

আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হতে পারে ইয়েমেন
ইয়েমেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে না; বরং এটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে হুথিদের অবস্থান, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের সামরিক তৎপরতা- সব মিলিয়ে ইয়েমেন আবারও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হতে পারে।

২০১৫ সালের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শেষে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্তি এনেছিল। কিন্তু সেই শান্তি কখনওই স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ নেয়নি।

এখন হুথিদের নতুন করে সামরিক তৎপরতা, সরকারি বাহিনীর পাল্টা প্রস্তুতি এবং সৌদি আরবের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ- সবকিছু মিলিয়ে ইয়েমেন আবারও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সূত্র: আল-জাজিরা

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us