ঢাকা
০৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
বিএনপি দেশের স্বাধীনতা-গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আন্দোলন করে, দলের জন্য নয় শেখ হাসিনা তার নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন : সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়: ইশরাক হোসেন তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি-রিকশা উপহার প্রধানমন্ত্রীর আ.লীগ বিদ্যুতে অলিগার্ক বানিয়েছে, বিএনপি জ্বালানিতে পাঁয়তারা করছে : ফুয়াদ হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর, পেশ হবে লিখিত দাবিদাওয়া জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হবে না: জামায়াত আমির দেশ ওপরে উঠতে থাকলেই পেছনে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়: ফখরুল
Advertise with us

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬   ২৭ বার পঠিত
গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই, বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পাবেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।

গণমাধ্যমকে কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমশিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যমশিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যমশিল্প টেকসই হবে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপনের বাজারও সম্প্রসারিত হবে না। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ায় মিডিয়া ইকোসিস্টেম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের প্রবণতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম।

স্বাগত বক্তব্য দেন টিইসির সদস্যসচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us