ঢাকা
০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণদের সক্রিয় থাকার আহ্বান আলী রীয়াজের একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ ফোন বন্ধ, নতুন করে চালু হচ্ছে এনইআইআর শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন: এমপি বরকত উল্লাহ বুলু গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম
Advertise with us

৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬   ২৫ বার পঠিত
৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি

ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বললেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্টোরেজ ব্যবস্থা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

একনেক সভা শেষে আজ বুধবার আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে, আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হবে। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে এ ধরনের ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল না এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

তিনি জানান, মূল প্রস্তাবে একটি সম্পূরক ব্যবস্থার আওতায় চার ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজের পরিকল্পনা ছিল। তবে একনেক বৈঠকে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন আলাদা কোনো সম্পূরক প্রকল্প না নিয়ে মূল ডিপিপিতেই আট ঘণ্টার স্টোরেজ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বর্ধিত ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার ফলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ব্যাটারি স্টোরেজ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নির্ধারণ করেছিল। তবে আট ঘণ্টার স্টোরেজ সুবিধার জন্য সংশোধিত ব্যয় হিসাব এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। পুনরায় হিসাব করার পরই চূড়ান্ত ইউনিটপ্রতি খরচ নির্ধারণ করা হবে, কারণ ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা এখন আট ঘণ্টায় উন্নীত করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত স্টোরেজ ব্যবস্থার ফলে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় বাড়লেও তা অধিকতর সুবিধা বয়ে আনবে। এর মাধ্যমে সিস্টেমটি বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে এমনকি রাতের বেলাতেও তা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমান রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। পরিকল্পিত দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ এগোয়নি। ফলে উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত রয়েছে।’

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এরইমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। সরকার এখন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত করা ওই জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার ওই এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এরইমধ্যে প্রস্তুত করা জমি ব্যবহার করা যাবে বলে নতুন করে কোনো স্থান প্রয়োজন হবে না। রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।’দেশের পরিবেশগত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে একটি ‘সবুজ’ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকল্পকে লাল, হলুদ ও সবুজ-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে থাকে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ‘সবুজ’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, ‘ডিপিপি প্রণয়নের পর্যায়ে পরিবেশগত বিষয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেয়ার জন্য সরকার নতুন একটি নীতিকাঠামো প্রণয়নের কাজও করছে। প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় প্রকল্প প্রণয়নের সময় প্রায় ১০ থেকে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করতে হবে এবং এসব বিষয়ে পৃথক প্রতিবেদন ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন নীতিমালার আওতায় পরিবেশগত বিষয়গুলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আজকের একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণের কথাও জানান।
সাকি বলেন, ‘কয়েকটি প্রকল্প নির্দিষ্ট কিছু পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নের শর্তে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তাব সংশোধন করে আবার একনেকে উপস্থাপন করতে হবে।’

অবকাঠামোর গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে সড়ক বা অন্য কোনো অবকাঠামোয় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকে তা মেরামত করতে হবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us