ছবি: প্রতিনিধি
বার্মিংহাম ( যুক্তরাজ্য) থেকে : ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
‘সমাজ পরিবর্তনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিরাত চর্চা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বার্মিংহামের আস্টনস্থ ইকবাল ব্যাংকুইটিং হলে খেলাফত মজলিস ইউকে নর্থের উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস ইউকে নর্থের সভাপতি মুফতি তাজুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হাসান সাবির।
কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ। তিনি বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে। পরিবার ও সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর আদর্শের কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাজাহিরুল উলুম লন্ডনের প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমদাদুর রহমান আল মাদানী বলেন, মুসলিম উম্মাহকে নিজেদের জীবনে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে তাঁর মহান চরিত্র ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আলেম ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা হাসান নুরী চৌধুরী, বাংলাদেশী উলামা মাশায়েখ ইউকের সেক্রেটারি মাওলানা শাহ মিজানুল হক এবং মুফাসসিরে কোরআন মুফতি শাহীদুর রহমান মাহমুদাবাদী।
বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল মানবতার জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ও চরিত্র ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে সিরাতের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন।
মাওলানা নূরুল ইসলাম রায়হানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস ইউকে নর্থের সহসভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মালিক পারভেজ, মাওলানা আনহারুল ইসলাম চৌধুরী, আলহাজ্ব সৈয়দ কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুল মতিন, কবি ও সাহিত্যিক আলহাজ্ব মুফিদুল গনি মাহতাব, সহসেক্রেটারি ও বার্মিংহাম শাখার সভাপতি মাওলানা আ ফ ম শুয়াইব এবং কমিউনিটি নেতা ও নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব খছরু খানসহ অনেকে।
কনফারেন্স শেষে খেলাফত মজলিসের আদর্শ ও কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সংগঠনে যোগদান করেন। এ সময় সংগঠনের দায়িত্বশীলরা নবাগতদের স্বাগত জানান।
কনফারেন্সে খেলাফত মজলিস ইউকে নর্থের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল, সদস্য, কর্মী ও বিপুলসংখ্যক সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।