ঢাকা
২৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম
১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন শাম্মী আক্তার আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি প্রধান সড়কে অটোরিকশা-ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা: ডিএমপি মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ: সংসদে অর্থমন্ত্রী মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আরেক মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মমতাজ
Advertise with us

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবে না ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬   ২৬ বার পঠিত
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবে না ইরান

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবে না ইরান  ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার সাথে ইরানের চলমান আলোচনায় দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার টেবিলে বা এজেন্ডায় ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। অথচ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাকেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ইসলামাবাদে সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ)-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো ধারণা নয় বরং বাস্তব সত্য যে ইরান কখনোই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি এবং তা আলোচনার সূচিতেও ছিল না। এ সময় বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে শাহবাজ শরিফ বলেন, অন্য দেশগুলোর ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারলে ইরানের কেন থাকবে না, এমন দ্বিচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই কোনো চুক্তির অংশ হবে না এবং এ বিষয়ে তারা কোনো আপস করবেন না। দেশের প্রতিরক্ষায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ যদি ইরানের এই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকত, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গাজার মতোই ইরানকেও মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিত, তারা শিশু বা বৃদ্ধ কারও প্রতি দয়া দেখাত না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবিটি অবাস্তব ছিল। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, অন্য দেশগুলোর কাছে যখন এই প্রযুক্তি রয়েছে, তখন ইরানের কাছে তা না থাকাটা এক ধরনের অন্যায়।

অথচ যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার অবস্থান এমন ছিল না। গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্মারকে পরিষ্কার বলা হয়েছিল, অভিযানের প্রথম দিন থেকেই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীর হুমকি নির্মূল করা। তবে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর আমেরিকার এই প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস কিংবা ইউরেনিয়াম মজুত জব্দ করার মতো মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটিও অর্জিত হয়নি। ফলে বর্তমানে ওয়াশিংটন কেবল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই বিষয়ের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা চলছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠককে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে, যা যুদ্ধকালীন অবরোধের মুখে পড়া ইরানের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে সফল উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবানন সীমান্তেও শত্রুতা অবসানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল আমেরিকার এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করায় ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে পঞ্চম দফার পৃথক ও প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকে লেবানন মূলত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, বন্দিমুক্তি এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছে। বিপরীতে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রিকরণের সাথে জুড়ে দিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননে নিজস্ব নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার শর্তে অনড় রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930