ঢাকা
২৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম
১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন শাম্মী আক্তার আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি প্রধান সড়কে অটোরিকশা-ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা: ডিএমপি মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ: সংসদে অর্থমন্ত্রী মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আরেক মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মমতাজ
Advertise with us

আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬   ২২ বার পঠিত
আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি-জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন বুধবার (২৪ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাব, এই টার্গেট ধরা হয়েছে। ঘাটতি বাজেট হল ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমরা এ কথা সবাই জানি, আমাদের রাজস্ব প্রাপ্তির যে টার্গেট ধরা হয়, সেটা আমরা অর্জন করতে পারি না। বিগত তিন বছর তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সেই হিসেবে ধরলে আমাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বললে অত্যুক্তি হবে না।

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আমরা ৩ লাখ কোটি টাকা আমরা নির্ধারণ করেছি মোটামুটি। এই টাকা পেলে আমরা আগামী এক বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সুন্দরভাবে করতে পারবো। এ জন্য ঘাটতি বাজেট করা হলো ৩ লাখ কোটি টাকার মত। এখানে একটা বিষয় আমাদের জানা দরকার বোঝা দরকার যে, খরচের খাতে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হবে। কিন্তু ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন কিন্তু আভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি কোটি টাকা। এখন সেই ঋণ বেড়ে ২০২৬ সালে এসে ৩০ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ লাখ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। আর এই ৩০ লাখ কোটি টাকার সুদ আমাদের এ বছর দিতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এখন ৩ লাখ কোটি টাকা এ বছর আবার ঋণ আমরা নিতে চাচ্ছি। এইভাবে যদি আরও কয়েক বছর যায়, তাহলে এক পর্যায়ে এসে সুদ দিতেই তো আমাদের হিমশিম খেতে হবে। আমরা দেশ চালাবো কীভাবে? ঋণের টাকাটা পাবো কোথায়? সে সলুশনটা দেওয়া হয়েছে যে, আমরা ১ লাখ ১২০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেব।

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে কিন্তু খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তো ব্যাংক আমাদের কীভাবে ঋণ দেবে? তখন দেখা যাবে যে, ব্যাংক যদি ঋণ না দিতে পারে তাহলে কিন্তু আমাদের টাকা ছাপানো ছাড়া আর পথ থাকবে না।

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমার আগে একটু আগেই ব্যারিস্টার নাজিম মোমেন সাহেব তিনি কিন্তু আজকের পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন যে, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে। আমিও দুই তিন মাস আগেই এটা দেখছিলাম পত্রিকায়। নিজেই দেখছিলাম যে, সরকার টাকা ব্যাংক থেকে টাকা সরকার টাকা ছেপে এটা ব্যাংকে দিচ্ছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে তো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাহলে দেশটা কীভাবে চলবে? ঋণ করে ঘি ভাত খাওয়ার মতন আমাদের অবস্থা। আমরা ঋণ করে তিন লাখ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট করছি। তো আমাদের কী অবস্থা সৃষ্টি হবে একটা সময় গিয়ে? আওয়ামী লীগ তো ১৫ বছরের মাথায় এসে তারা ৩০ লাখ কোটিতে নিয়ে গেল। আমাদের তো ১৫ বছরের মাথায় গিয়ে ৬০ লাখ কোটি টাকা হয়ে যাবে। তখন আমাদের অবস্থাটা কী সৃষ্টি হবে, কীভাবে আমাদের দেশটা চলবে?

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু কারো ‘খাাড়া’র মাছ না। এই জনগণ তারা গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই। এইজন্য আমি মনে করি যে, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল, বিরোধী দল মিলেই একটা সরকার।

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমাদের সরকারি বন্ধুরা অসহিষ্ণু হন, প্রায় প্রায় বলেন যে, বিরোধীদলীয় নেতারা এই কথা বলেন, ওই কথা বলেন। বাজেটের ওপরে আলোচনা চলছে, হবে, তারপর সবাই মিলে আমরা একটা বাজেট করব। সেই বাজেটটা সবাই মিলে এটা বাস্তবায়ন করব, এটাই তো হতে হবে। আমরা যা পেশ করাবে, তাই তার শুধু গুণগান গাব? তাহলে তো হলো না।

বিরোধী দল রাজনীতি তো সরকারের একটা পার্ট উল্লেখ করে মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, এই সরকারকে সুন্দরভাবে চলতে হবে। দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে হবে, সুশাসন দিতে হবে, দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে সেই সংগ্রাম আমাদের রাখতে হবে। দেশের মানুষ যেন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930