ঢাকা
২৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম
১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন শাম্মী আক্তার আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে জামায়াত এমপি প্রধান সড়কে অটোরিকশা-ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা: ডিএমপি মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ মহিমান্বিত হবে: স্পিকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ: সংসদে অর্থমন্ত্রী মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে : প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আরেক মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মমতাজ
Advertise with us

‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’— নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তিরস্কার নিয়ে তোলপাড়

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬   ২৩ বার পঠিত
‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’— নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তিরস্কার নিয়ে তোলপাড়

‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’— নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের তিরস্কার নিয়ে তোলপাড়  ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের নেপথ্যের একটি উত্তপ্ত ঘটনার নতুন তথ্য উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে। বইটির দাবি, গাজা যুদ্ধ চলাকালে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।’ বইটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ শীর্ষক বইয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প তার জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপের সময় এ মন্তব্য করেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই আলোচনায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কথা হচ্ছিল। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর এই পরিকল্পনা সামনে আনা হয়।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর জ্যারেড কুশনার ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। ওই হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বইটির ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কুশনার তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বলেন, ‘আমি আর থাকছি না। ইসরায়েলিরা পাগল হয়ে গেছে।’

তবে পরে তিনি পরিস্থিতিটিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেন, যাতে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হয়। এরপর কুশনার একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। পরে ট্রাম্প সেই পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর কাছে উপস্থাপন করেন।

বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত। এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।’

এখানে তিনি সম্ভবত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের কথা উল্লেখ করেছিলেন, কারণ তারা দুজনই ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এবং উভয়েই ইহুদি।

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তুমি এখন আর পিছু হটতে পারবে না। ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু আমি। সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি। এটি ইসরায়েলের জন্য দারুণ একটি চুক্তি।’

ফোনালাপের দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ওই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও পরিকল্পনাটিকে সমর্থন দেয়।

‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে বর্ণিত একাধিক উত্তপ্ত ঘটনার মধ্যে এটি একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্দরমহলের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বইটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নানা সংবেদনশীল আলোচনা স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে এপস্টেইন ফাইল এবং ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলাপ-আলোচনার বিষয়ও এতে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটির কিছু অংশ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পরিস্থিতি কক্ষে হওয়া কথোপকথনের তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে পরিস্থিতি কক্ষে আরেক দফা আলোচনা হয়েছিল। সেখানে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের উপযুক্ত সময় এসেছে।

তবে পরবর্তী এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নাকি নেতানিয়াহুর ওই মূল্যায়নকে ‘সম্পূর্ণ বাজে কথা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলেও বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প ‘ভীষণ ক্ষুব্ধ’ হয়েছেন।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930