ছবি: সংগৃহীত
চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত দু দিনে ইরানের প্রায় ১৭০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড(সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্যমতে, এসব হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বিরুদ্ধে নেওয়া ওয়াশিংটনের চালানো অন্যতম বৃহত্তম ও ধারাবাহিক সামরিক অভিযান।
একই সঙ্গে সামরিক অভিযানটি আরও বৃহৎ আকারে পরিচালনা করা হতে পারে বলে মনে জানিয়েছে সেন্টকম। এসব হামলায় হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার জেরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া হবে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে গত দুদিন রাতে সামরিক অভিযানে তেহরানে অবস্থিত আইআরজিসি-র সদর দপ্তর এবং একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে একাধিক অনির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া গেছে। এতে আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই তথ্যটি বর্তমানে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর ৭ জুলাই চালানো প্রথম দফার অভিযানে দেশটির ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে সক্রিয় আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে আঘাত হেনেছে।
নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা
পেন্টাগন জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। পরের রাতেই অভিযানের দ্বিতীয় ধাপটি পরিচালিত হয়; এতে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে আরও প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। হামলায় মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, নৌ-সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত যখন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই সামরিক অভিযানগুলো চালানো হলো। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন ও অন্যান্য মিত্র দেশের ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আনা-নেওয়া করা হয়, সেখানে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ।