ঢাকা
২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন, কে কোন দায়িত্ব পেলেন ঠাকুরগাঁও নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মাগুরার পরিণতি ভোগ করতে হবে: ১১ দল ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে’ ইউরোপের তিন দেশ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে গোলাম আযমের অবদান স্মরণ করবে জাতি: জামায়াত আমির আকিকা করার পর আবার নাম পরিবর্তন করা যাবে? শীতের সবজি বাজারে আসায় কিছুটা স্বস্তি, কমেছে ডিমের দামও তিব্বতে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তাইওয়ানেও ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ লড়ছে বিসিবি একাদশ
Advertise with us

ঠাকুরগাঁও নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মাগুরার পরিণতি ভোগ করতে হবে: ১১ দল

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬   ২৩ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মাগুরার পরিণতি ভোগ করতে হবে: ১১ দল

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরা নির্বাচনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১-দলীয় জোট। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৯ তারিখ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। সে নির্বাচনে জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য, পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সেখানে আজকে ১১-দলীয় যে প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, এটা আমরা জানি। আগামীকাল সেখানে জনসভা আছে, সেখানে আমরা জনসমুদ্র লক্ষ করব। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে নানা ধরনের সংবাদ আছে। আবার সেই ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এ ধরনের যদি কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সরকারকে আমরা আহ্বান জানাব। আপনারা সবাই জানেন, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়, একটি দৃষ্টান্ত। এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।’

সরকারের উদ্দেশে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা জোর করে তো ক্ষমতায় রাখতে পারব না। উনাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত তৈরি করে একটু পালিয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতি আপনারাই তৈরি করে দেন, জনগণের কিছু বলার নাই। সে জন্য মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঠাকুরগাঁওয়ে এটা আমরা চাই না। এ জন্য সাবধান হন, সতর্ক হন। এ ধরনের অসৎ পরিকল্পনা থাকলে ধুয়ে-মুছে ফেলে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আজ সজাগ এবং জনগণও প্রস্তুত হচ্ছে কীভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ঠেকানো যায়। সেই পথেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামব, ইনশা আল্লাহ।’

সাত দলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও ১১-দলীয় জোটের ঐক্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গতকালের মিটিংয়ের ব্যাপারে এতটুকু আলোচনা হয়েছে। বক্তব্য দেওয়া ছাড়াই এটা প্রমাণ করে, যারা ওখানে সাত দল বা যে দলেই হোক, জোট হোক, উনারা আজকে এখানে ১১ দলে আছেন। সুতরাং ওখানে ১১ দলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে, ভেঙে গেছে– নানা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। উনারাই হলেন এর বক্তব্যের জবাব। উনাদের উপস্থিতিই হচ্ছে জবাব।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং ১১ দল আছে, থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত, গণভোটের রাস্তা না হওয়া পর্যন্ত যে ঐক্য হয়েছে, ওই ঐক্য অটুট রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে যাত্রা শুরু হবে। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

লংমার্চের পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর, খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় এবং চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। কর্মসূচির সমাপনী সভা হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বার্তা দিতে চাই, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারেন, দেয়ালের লিখন পড়েন, শিক্ষা নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, হেডকোয়ার্টারে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ করব। ঢাকা থেকে শুরু করে একেবারে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ করব। প্রতিটি জায়গায় জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।’

লংমার্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রসঙ্গে সমন্বয়ক বলেন, ‘কারও উসকানি এবং বিশৃঙ্খলা করার সামান্যতম নমুনা যদি থাকে, সেটা যেন আগেভাগে উনারা ব্যবস্থা নেন। সে ব্যবস্থা যদি আপনারা না নেন, তাহলে আমরা বুঝে নেব সরকার এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি যতভাবে আমাদের এই কর্মসূচির মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য আপনারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি না, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত হোক। তারা জনগণের হয়ে কাজ করবেন, জননিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে উনাদেরও সহায়তা চাই।’

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির নেতারা, জাগপার নেতারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us