ঢাকা
২১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
‘সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজন না করে সবাইকে দেশের নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে’ ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী: ডেপুটি স্পিকার রাজশাহীতে আখচাষিদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ভাড়া দেওয়া বাসায় মাদকদ্রব্য ও নারীসহ আটকের ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ইসলামী আন্দোলনের মহিলা কমিটি ঘোষণা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি না, পথ দেখিয়ে দিই: জামায়াত আমির দুর্গাপূজা নিয়ে তাহেরের নামে ভুয়া ফটোকার্ড, জামায়াতের প্রতিবাদ আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট করেছে: স্পিকার হাফিজ রাষ্ট্র, সরকার আর সরকারি দলকে এক করে ফেলেছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা : জামায়াতের অভিযোগ
Advertise with us

রাষ্ট্র, সরকার আর সরকারি দলকে এক করে ফেলেছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা : জামায়াতের অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬   ২৮ বার পঠিত
রাষ্ট্র, সরকার আর সরকারি দলকে এক করে ফেলেছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা : জামায়াতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দলকে এক করে ফেলেছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা- এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের দুর্নীতি, দলীয়করণ ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলে সেটিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এভাবে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল তিনটি পৃথক বিষয়। সরকারি দল একটি রাজনৈতিক দল, যার নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও নিবন্ধন রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার মন্ত্রিসভার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিও কোনো দলের নন। রাষ্ট্রপতি হতে হলে তাকে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা যদি সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করলে সেটাকে জুলাইয়ের বিরোধিতা কিংবা শহীদদের বিরোধিতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সরকার, রাষ্ট্র আর সরকারি দলের সংজ্ঞা আগে বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের গণবিরোধী কাজের বিরোধিতা করা, জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিরোধী দলকে জুলাইয়ের চেতনার বিরোধী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার নিজেরাই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিসৌধ স্থাপন অনুষ্ঠানে বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতিবাদ জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের মানুষ, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানেন, জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বরং সরকারি দলই জুলাইকে ধারন করে না যদি তারা ধারণ করতো তাহলে জুলাই সনদ নিয়ে তালবাহানা করতো না।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তার মতে, জামায়াত জুলাইকে ধারণ করলেও ক্ষমতাসীন দল জুলাই সনদের চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ছিল দলীয়করণ, দুর্নীতি ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করা। কিন্তু বর্তমান সরকার এসব ক্ষেত্রে সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদে সাংবিধানিক পদগুলোতে সরকারি দল, বিরোধী দল, বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান বিচারপতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার জুলাই সনদের চেতনা অনুসরণ করছে না বলে তার অভিযোগ। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।

পিএসসি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে ক্যাডার নিয়োগের যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। অথচ এখন পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিদায় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টিও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়গুলো জুলাই সনদ কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে ওই ব্যবস্থাকে ‘মহা প্রতারণার দলিল’ বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এর মধ্যে মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল। জামায়াতও পাঁচটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল। তবে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে জামায়াত নিজেদের ভিন্নমতের অবস্থানে অনড় থাকেনি। বিএনপি নিজেদের ভিন্নমতের অবস্থানে অনড় থেকে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। এ জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা থাকবে।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পাশে জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের নেতারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদের সহায়তা করেছেন এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে বলে তাদের ধারণা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সূত্রে ৮০০-এর বেশি শহীদের কথা বলা হলেও তাদের হিসাবে সংখ্যাটি আরও বেশি।

তিনি দাবি করেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পরিচয় ও ঘটনাবলি সংগ্রহ করে জামায়াত জুলাইয়ের শহীদদের নিয়ে সংকলন প্রকাশ করেছে। বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তারা (বিএনপি) কতজন শহীদের বাড়িতে গিয়েছেন, কতজন আহত যোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দলীয় তহবিল থেকে কত অর্থ সহায়তা দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা উচিত।

ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিসৌধ স্থাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হলেও সেখানে তার পদমর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে সেই মর্যাদা প্রতিফলিত হওয়া উচিত ছিল। আমন্ত্রণপত্রে তার আসন কোথায় হবে, তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কি না এসব বিষয় স্পষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের বড় সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে সাধারণ দর্শকের আসনে বসতে হলে তা তার জন্য অসম্মানজনক হতো। বিরোধী দলকে ছোট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন জামায়াতের এই নেতা। সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দলীয়করণ আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। অথচ বাইরে গিয়ে বলা হচ্ছে, বিরোধী দল আলোচনায় আসছে না। বিরোধী দলকে উপেক্ষা করে এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তা দেশের জন্য ভালো হতো। সরকারের এমন আচরণের কারণে আবারও আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বক্তব্য ও পদক্ষেপের মধ্যে অসংগতি এবং সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ, কেরোসিন, অকটেন ও ডিজেলের দাম বারবার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। তার দাবি, সরকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাতটি বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরার কথা জানান। বিষয়গুলো হলো- জুলাই স্মৃতিসৌধ স্থাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হওয়ার অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ফ্যাসিবাদের পথ নিয়ে প্রশ্ন, ১৯৫৪-১৯৯৫ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের একই পথে চলার প্রসঙ্গ, ওয়াজ মাহফিল, সংসদ সদস্যদের মাহফিলে বক্তব্য ও সাংগঠনিক সভা-সম্মেলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us