ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসে বেড়ে ওঠা কিশোর-কিশোরীদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও অনুভূতি বুঝতে অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ প্যারেন্টিং সেশন ‘Understanding Teenage Language—তোমার ভাষা বোঝার আশা’। এতে প্রজন্মগত দূরত্ব কমানো, সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে সিডনির এমারেল্ড হিলস কমিউনিটি সেন্টারে নটরডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (NDCAAA) আয়োজিত দুই ঘণ্টার এ সেশনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিভাবকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মনোবিজ্ঞানী জন মার্টিন।
আলোচনায় প্রবাসে ভিন্ন সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশে সন্তানদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অভিভাবকদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ উঠে আসে। বিশেষ করে কিশোর বয়সে সন্তানদের আচরণ ও চিন্তাভাবনার পরিবর্তন, তাদের অনুভূতি বোঝা এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
জন মার্টিন বলেন, অভিভাবকেরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখানোর মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক আরও সুন্দর করা সম্ভব।
রোল-প্লেতে উঠে আসে বাস্তব জীবনের চিত্র
সেশনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন রোল-প্লে ও সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব। বাস্তব জীবনের নানা পরিস্থিতি অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে অভিভাবক ও কিশোর সন্তানদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করা হয়।
রোল-প্লেতে অংশ নেন আরিনা, স্বর্গ, তানিম ও রুবি। তাঁরা বিভিন্ন পারিবারিক পরিস্থিতি অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। পরে জন মার্টিন সেসব পরিস্থিতিতে কীভাবে ইতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো যায় এবং সন্তানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব, তা ব্যাখ্যা করেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারী অভিভাবকেরাও নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, হাসি ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
### ‘কঠিন বাবা-মা নয়, সন্তানদের বন্ধু হতে চাই’
অনুষ্ঠানে NDCAAA-এর সভাপতি সায়মন হোসেন বলেন, প্রবাসী বাবা-মা ও সন্তানদের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে আনাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বাবা-মা ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠলেও তাঁদের সন্তানরা অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে বড় হচ্ছে। তাই সন্তানদের জগৎ ও চিন্তাভাবনা বুঝে তাদের কাছে কঠিন অভিভাবক নয়, বরং বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও কার্যকর যোগাযোগের বিকল্প নেই।
আয়োজনে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ব্রেকফাস্ট স্পন্সর করে কেন্টহার্স্টের প্রতিষ্ঠান ‘দ্য হিলস গ্রোভ’। অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতার জন্য NDCAAA-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অংশগ্রহণকারী কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, অভিভাবকত্ব, সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও পারিবারিক যোগাযোগ নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালে পরবর্তী সেশন আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
প্রবাসে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি তাদের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা বোঝাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সে বার্তাই উঠে আসে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তাদের নিজস্বতা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে বলে মত দেন আলোচকেরা।