ছবি: ফাইল ছবি
নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, একটি ডিমের দাম ১৫ টাকা হওয়া আজ দেশের কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যাদের প্রতিদিন মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের প্রোটিনের একমাত্র ভরসা ডিম। অথচ সেই ডিমের হালি এখন ৫৫ টাকা। শুধু ডিম নয়; চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ প্রায় প্রতিটি মৌলিক খাবারের দামই বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা এবং কদিন আগেই বেড়েছে দুধের দাম। অথচ মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সরকারের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী উল্লেখ করে তিনি এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন—
১. বাজেট ও মুদ্রাস্ফীতি: মেগা প্রজেক্ট ও নানা ধরনের কার্ড ছাপানোর জন্য প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট করা হয়েছে। অথচ অর্থনীতিতে গতি না থাকায় এবং ধনীদের ট্যাক্স ফাঁকি বন্ধের উদ্যোগ না থাকায় এই বাড়তি টাকার জোগান দিতে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, যা সরাসরি পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে।
২. জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি: সরকার হুট করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোয় সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। যার পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার ঘাড়েই পড়ছে।
৩. সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি: রাজনৈতিক চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক বেশি দামে সাধারণ মানুষকে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
সরকার চাইলে বিকল্প পথে হাঁটতে পারত উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে দেখানো হয়েছে যে, ধনীদের ট্যাক্স ফাঁকি রোধ ও অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টের ব্যয় কমালে মধ্যবিত্তের ওপর ট্যাক্স কমানো যায়, নিত্যপণ্যের ভ্যাট তুলে নেওয়া যায় এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সরকার তা না করে ভুল নীতি বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের এসব নীতির সুফল ভোগ করছে সুবিধাভোগী একটি শ্রেণি, অন্যদিকে কোটি মা আজ রাতে ১৫ টাকার একটি ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।