বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হলে নেতাকর্মীদেরকে দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ইমানী শক্তিতে বলীয়ান কোনো জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি নস্যাৎ করতে পারবে না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শুক্রবার কুমিল্লা মহানগরীর আইটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এটিএম মাসুম এর সভাপতিত্বে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর পরিচালনায় শিক্ষা শিবির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনশক্তিকে শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলে চলবে না; তাদেরকে কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। একজন রুকন নিজের জীবনকে ইসলামী আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহ-ভীতি, সততা, আমানতদারী ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথম দায়িত্ব নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে আন্দোলনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রতিকূলতা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য নতুন কিছু নয়। আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষা আসতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ঈমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যোগ্য ও নৈতিক জনশক্তি ছাড়া কোনো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই রুকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদেরকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষা শিবিরে আলোচনা রাখেন কেন্দ্রীয় সরকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এএইচএম আব্দুল হালিম,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহাদ্দিস আবু নাছর আশরাফী।
উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন,কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু.মাহবুবর রহমান প্রমুখ।