ছবি: সংগৃহীত
সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে কিংবা বিকেলের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ দুধ-চা অনেকেরই পছন্দ। তবে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে প্রিয় এই পানীয়টি খাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার থাকলে চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চা তৈরির ধরন ও বিশেষ করে চিনির পরিমাণে সতর্ক হওয়া জরুরি।
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মৃদু মাত্রার লিভারে চর্বি জমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শরীরচর্চার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে অনেক ক্ষেত্রেই অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।
চিনির দিকে নজর দিন
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চায়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করার অভ্যাস কমানো গুরুত্বপূর্ণ। চা, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় থেকে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে শরীরে মোট ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এতে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই সাদা বা বাদামি চিনি কিংবা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে চা অতিরিক্ত মিষ্টি না করাই ভালো। ধীরে ধীরে চায়ে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনা কিংবা সম্ভব হলে চিনি ছাড়া চা পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে।
দুধ কেমন হবে?
দুধ নিজে থেকে লিভারের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে বেশি চর্বিযুক্ত বা ফুল-ক্রিম দুধ নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত ক্যালরি ও সম্পৃক্ত চর্বি যোগ হতে পারে। এ কারণে ফ্যাটি লিভার থাকলে পরিমিত পরিমাণে কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
চাইলে দুধের পরিমাণ কমিয়ে হালকা চা পান করা যায়। দুধ সহ্য না হলে বিকল্প দুধ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
স্বাদ বাড়াতে মসলা
চায়ে অতিরিক্ত চিনি না দিয়েও স্বাদ বাড়ানো যায়। আদা, এলাচ, দারুচিনি বা লবঙ্গের মতো মসলা অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ে।
শুধু চা নিয়ে ভাবলে হবে না
ফ্যাটি লিভারের যত্নে শুধু চায়ে চিনি বা দুধের পরিমাণ কমালেই হবে না। পুরো দিনের খাবার, শরীরের ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার দিকেও নজর দিতে হবে।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে ওজন কমানো এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থাকলে সকালে এক কাপ দুধ-চা পান করলেই ক্ষতি হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। বরং চায়ে চিনি কমানো, পরিমিত দুধ ব্যবহার এবং সার্বিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা ভালো।