ঢাকা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

পদ্মায় ৯ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, দুর্ভোগ চরমে

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৯ বার পঠিত
পদ্মায় ৯ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, দুর্ভোগ চরমে

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যা থেকে বন্ধ রয়েছে এই নৌরুটের ফেরি চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ নৌরুটটি বুঝে নেয়। এরপর দুইটি ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কপোতি ও ক্যামেলিয়া নামে দুইটি ফেরি প্রতিদিন চারবার করে জৌকুরা থেকে ছেড়ে যেত। স্বাভাবিক সময়ে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটে নৌরুট পারাপার করা যেত ফেরি দিয়ে। স্রোতের গতি বৃদ্ধি পেরে সেই সময় দাঁড়িয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফেরি চলাচলে দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার জৌকুড়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাটের পশ্চিমে দুইটি ফেরি অলস বসে আছে। পাশের ট্রলারঘাট থেকে ইঞ্চিনচালিত নৌকায় উত্তাল পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। বাস ও ট্রাক না থাকায় বেশিরভাগ দোকানে সুনসান নিরবতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে মানসম্মত ফেরি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

যাত্রীরা জানান, ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাত থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন—বিআইডব্লিউটিসির অধীনে ফেরি চলাচল শুরু হলেও দুর্ভোগ কমেনি। দুটি ফেরির একটি প্রায় তিন মাস ধরে বিকল। অপরটিও স্রোতের কারণে বন্ধ। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চালকেরা বলছেন, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুট শুধু পাবনা নয়, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই রুট দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাস পারাপার হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় যানবাহনকে ঘুরপথে চলতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বাড়ছে।

ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিউল ইসলাম বলেন, আমাদের নৌরুটে কপোতি ও ক্যমেলিয়া নামে দুইটি ফেরি রয়েছে। প্রতিদিন রাজবাড়ীর জৌকুরা থেকে ৪ বার পাবনার নাজিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে যায়। যে কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কদম নামে একটি ফেরি নৌরুটে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেরিন বিভাগের আপত্তির কারণে সেটিও চলানো সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us