ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে তুলে নিয়ে যাওয়া তামান্না আক্তার নামের সেই নববধূর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তামান্না একটি কক্ষে বসে আছেন। তার পাশে ছয়জন নারী ও সামনে একজন পুরুষ বসে আছেন। এছাড়া অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও ভিডিওটি ঠিক কোন স্থানে ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনা নিয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বরপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছিল। গতকাল রাতে মেয়েটি ভিডিও বার্তায় নিজের মত জানিয়েছেন। বিষয়টি তাদের নজরে আছে। কেউ মামলা করলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা। তবে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। পরে মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার পর মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..! এর মধ্যেই গতকাল রাতে ওই নববধূর ভিডিও বার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।