ঢাকা
২৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৎ কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে: সারজিস সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম ‘যারা মদিনার সনদে দেশ চালানোর কথা বলেছে, তারা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করছে’ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ নিন্দা জামায়াতের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ‘অলংকারিক’ হয়ে যাচ্ছে: হাসনাত পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন : ডিএসসিসি প্রশাসক তিন লাখ রুশ সেনা মোতায়নে সর্তক করলো জেলেনস্কি সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Advertise with us

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬   ২৩ বার পঠিত
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জনগণকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূ-খণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।

আজ রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানবিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়; তারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী ও মিয়ানমারের ভূ-খণ্ডের অধিবাসী। বাংলাদেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে রোহিঙ্গারা মানুষ এবং তাদের মানবাধিকার রয়েছে। তাই তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নিজ দেশে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। একজন মানুষ জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই জীবন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার লাভ করে; এসব অধিকার রক্ষায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে দেশের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতা ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

আইনমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে গবেষক, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী জনমত গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পেছনে জাতীয় সমর্থন সুস্পষ্ট থাকে।

তিনি নীতি গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গা সংকটের সামাজিক, মানবিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব সুপারিশ সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐকমত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শফিকুল আহমেদ, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হক এবং রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us