ঢাকা
১৩ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

২৮ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড, জামিনের প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬   ১১ বার পঠিত
২৮ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড, জামিনের প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ

ছবি: সংগৃহীত

বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের আরও ১২টি জেলায় অনলাইন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের মোট ২৮টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হলো। নতুন ব্যবস্থায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির প্রক্রিয়া যেমন সহজ ও দ্রুত হবে, তেমনি বেইলবন্ড দাখিলেও কমবে সময় ও হয়রানি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এসময় মন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের হয়রানি বন্ধ করে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা এরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও জানান, প্রচলিত ব্যবস্থায় একটি বেইলবন্ড দাখিল ও সম্পন্ন করতে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। নতুন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থায় তা মাত্র দুই ধাপে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। আইনজীবীরা নিজেদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করতে পারবেন। দাখিলের পর তা গ্রহণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এককালীন পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে বিশেষ করে জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি কমবে। কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা জজ আদালতে বারবার যাতায়াতের যে দুর্ভোগ ও হয়রানি তাঁদের পোহাতে হয়, নতুন ব্যবস্থায় তা অনেকাংশে দূর হবে। সরকার জনগণকে হয়রানি করতে চায় না; বরং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি জানান, এর আগে দেশের ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ার পর গত কয়েক মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বেইলবন্ড অনলাইনে দাখিল হয়েছে। এতে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর—এই ১২ জেলাকে কার্যক্রমের আওতায় আনা হলো।

মন্ত্রী বিচারক, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো বন্দি যদি আপসযোগ্য মামলায় কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমার পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ই-বেইলবন্ডের পাশাপাশি মধ্যস্থতা, আইনগত সহায়তাসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মামলার সংখ্যা কমানো এবং নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলায় মামলা কমানো ও নিষ্পত্তির হার বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসবে, সেসব জেলার সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত বা পুরস্কৃত করার বিষয়েও আইন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা করছে।

মন্ত্রী বলেন, ই-বেইলবন্ড, মধ্যস্থতা ও অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস বক্তব্য দেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জামিনসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা আরও বাড়বে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us