ঢাকা
১৩ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

শিক্ষায় বাজেট শিক্ষাঙ্গন দখল করে চাঁদাবাজির বিস্তার করার জন্য: হামিদুর

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬   ২৮ বার পঠিত
শিক্ষায় বাজেট শিক্ষাঙ্গন দখল করে চাঁদাবাজির বিস্তার করার জন্য: হামিদুর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, আপনারা তো শিক্ষায় বাজেট দিয়েছেন শিক্ষাঙ্গন দখল করে চাঁদাবাজির বিস্তার করার জন্য, ছাত্রদলের মাধ্যমে ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজি করার জন্য।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত যুব র‌্যালিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রকে তরুণ সমাজের দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র বক্তৃতামালায় ব্যস্ত, চাপাবাজিতে ব্যস্ত। আর দলীয় নেতারা দাঙ্গাবাজি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটে ব্যস্ত। যুব সমাজ নিয়ে কাজ করার সময় ও সুযোগ তাদের নেই। আমাদের যুবকেরা অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। যে যুবকেরা দেশপ্রেমিক, তাদের দাবিয়ে রাখা যায় না। যে যুবকেরা সৎ, তাদের পিছনে ফেলা যায় না। আর যে যুবকেরা সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ, সেই যুবকেরা ইতিহাস রচনা করতে জানে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঠিক জুলাই বিপ্লবের কথা জানেন? অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সেই তরুণরা নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছিল, আকাঙ্ক্ষা ছিল, সম্ভাবনা ছিল, বর্তমান সরকার সেটাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশকে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, মানবিক, উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। যারা আমাদের যুব সমাজকে নির্যাতন-অত্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া এবং রাষ্ট্র ধ্বংস করার যে অপচেষ্টা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় তছরুপ বন্ধ করার অপচেষ্টা হয়েছে, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের যে মহোৎসব করা হয়েছে, সেই বাংলাদেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদের গণরায়, যেটা গণভোটের মাধ্যমে এসেছে, সেটার বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘আমাদের যুব সমাজ নিজেরা যেমন: উদ্যোক্তা হতে চায়, আবিষ্কারক হতে চায়, বিজ্ঞানী হতে চায়, প্রতিভা বিকাশ করে দেশকে গড়তে চায়, দেশের নেতৃত্ব দিতে চায়। শুধু রাজনৈতিক কারণেই তাদের দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা হয়, তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, সেটা আপনারা চান না?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সংস্কার হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন হবে, শক্তিশালী হবে। আমাদের সরকার বাহাদুরের যারা নবউদীয়মান সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, তাদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনের জবাবদিহিতার আওতায় আসবে। সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের দুর্নীতি, লুটপাটের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। আপনারা কি চান বাংলাদেশকে আবার অর্থনৈতিক দুর্বল অবস্থায় সেই তলাবিহীন ঝুড়ির ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে যেতে? যদি না চান, তাহলে সরকারকে বলব, জনগণের দাবি পূরণ করুন। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন। অবিলম্বে সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কার করুন।

তরুণদের বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আজকে এই বাংলাদেশের মানুষ এখনো বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছে। আজকে তরুণ সমাজ, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন বেকার। এবার অঙ্ক মিলান, কত শতাংশ বেকার আছে। এদিকে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এই যুব সমাজকে কর্মসংস্থান, কর্মমুখী শিক্ষার মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

সরকার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়ার কথা বললেও শিক্ষাঙ্গনে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষায় সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার জন্য। কিন্তু আমরা দেখছি, আপনারা তো শিক্ষায় বাজেট দিয়েছেন শিক্ষাঙ্গন দখল করে চাঁদাবাজির বিস্তার করার জন্য, ছাত্রদলের মাধ্যমে ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজি করার জন্য। না হয় আলিয়া মাদরাসা দখল করতে গেলেন কেন? জঘন্য হামলা কেন? ঢাকা কলেজে হামলা কেন? বাংলা কলেজে হামলা কেন? সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এই তরুণরা আগামী দিনের শিক্ষিত হবে, দক্ষ হবে, দেশ গড়বে, দেশের ভবিষ্যৎ রচনা করবে।

তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদেরকে দায়িত্ব দেন। এই তরুণ সমাজ আমরা গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, আমাদের এই তরুণরাই বিদেশে যায়, পড়ালেখা করে, আর ফিরে আসে না। কারণ তারা জানে, এ তরুণদের মেধার মূল্যায়ন হয় না। শিক্ষিত, যোগ্য তরুণ হয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে দেশে ফিরে আসে, অন্য দেশের শ্রমিকের সমান বেতনও তারা এখানে পায় না। ঠিক সুবিধা পায় না, গবেষণারও সুযোগ পায় না। ফলে বিদেশে পাড়ি দিয়ে সেখানে তারা বিজ্ঞানী হয়ে, আবিষ্কার করে।

বিদেশে বাংলাদেশি তরুণদের মেধার প্রশংসা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তারা আমাদেরকে বলে, তোমার দেশের সন্তানরা অনেক মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার সুযোগ তোমার দেশে নেই। কীভাবে বলি, আমার দেশের মেধাবীরা তো এখানে আমাদেরকে ড্রোন আবিষ্কার করে দিতে পারে, নতুন নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত করে দিতে পারে। এর মধ্য দিয়ে তোমার সোনার সন্তানরা আমার দেশের সোনালি ভবিষ্যৎ রচনা করে দেয়।

তিনি বলেন, তোমরা যদি তোমাদের দেশে তাদের সুযোগ দিতে, বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। মেধার মূল্যায়নের কারণে তরুণদের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে, আজকে এই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকের এই দিবসে আমরা শুধু বক্তৃতা নয়, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হই, আমরা শপথ গ্রহণ করি এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা শপথ বলি, আমরা আর দেশকে পিছনে যেতে দেব না।

এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ মহানগরের নেতারা র‍্যালিকে অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us