ঢাকা
০৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
আ.লীগ বিদ্যুতে অলিগার্ক বানিয়েছে, বিএনপি জ্বালানিতে পাঁয়তারা করছে : ফুয়াদ হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর, পেশ হবে লিখিত দাবিদাওয়া জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হবে না: জামায়াত আমির দেশ ওপরে উঠতে থাকলেই পেছনে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়: ফখরুল গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: রাশেদ খাঁন কাঁধখোলা গাউনে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া ভারতকে ভয় পেয়েই কি ফেলানী ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের ছবি সরানো হয়েছে-প্রশ্ন নাহিদের একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী নানা অপ্রচারের মাধ্যমে অনেকেই সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে: রিজভী অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে স্বস্তি, সেরে উঠছেন তাইজুল
Advertise with us

আ.লীগ বিদ্যুতে অলিগার্ক বানিয়েছে, বিএনপি জ্বালানিতে পাঁয়তারা করছে : ফুয়াদ

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬   ১১ বার পঠিত
আ.লীগ বিদ্যুতে অলিগার্ক বানিয়েছে, বিএনপি জ্বালানিতে পাঁয়তারা করছে  : ফুয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতে অলিগার্ক তৈরি করে গেছে আর বিএনপি সরকার জ্বালানি খাতে অলিগার্ক তৈরির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করে জ্বালানি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদে উত্থাপনের আগে পাশ না করার দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রের সম্পত্তির মালিকানা জনগণের হাতেই থাকবে। সংসদে ওপেন আলোচনা ছাড়া কোনো একক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে না।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর বিজয়নগরের সায়হাম স্কাই ভিউ টাওয়ারে এবি পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের সাম্প্রতিক জ্বালানি নীতি ও কতিপয় বেসরকারি গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম চারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পেট্রোবাংলা নতুন করে দাম বাড়ানোর জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে রয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী লোকসান ও ৬৫ থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া আদায়ের অজুহাতে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ এই বকেয়ার সিংহভাগই রয়েছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর কাছে। তাহলে বেসরকারি খাতের হাতে দিলে এই টাকা কীভাবে উদ্ধার হবে, তা অত্যন্ত রহস্যজনক।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অতীতের বেসরকারীকরণের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সরকার এলপিজি খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পর তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে জনগণকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। একইভাবে রেন্টাল পাওয়ারের নামে বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারি খাতে দিয়েও গ্রামে দৈনিক ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং পোহাতে হচ্ছে।

বসুন্ধরা গ্রুপ মে মাসে সরকারের কাছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো নীতিমালা বা ওপেন টেন্ডার ছাড়া বসুন্ধরাকে এই অনুমতি দেওয়া হলে তা দেশের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইতোমধ্যে তারা বিটুমিনের ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ বাজার দখল করে লোকাল আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারচ্যুত করেছে।

শুধু তাই নয়, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে রিপোর্ট আসার আভাস পেয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিপিএসসি চেয়ারম্যান ও জ্বালানি সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সিন্ডিকেটেড দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ বলে দাবি করেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কৃত্রিম জ্বালানি সংকট সৃষ্টির সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মে-জুন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তেল-গ্যাস অর্ডার করা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো ইতিহাস ও ওয়েবসাইটহীন সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে নিবন্ধিত দুইটি অখ্যাত কোম্পানিকে ১ লাখ মেট্রিক টন করে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির দায়িত্ব দেওয়ার পর পাম্পগুলোর লাইনের সংকট দূর হয়ে গেল। এটি একটি সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত লুটপাটের অংশ।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছরের জন্য পর্যাপ্ত কয়লা বাংলাদেশের মাটির নিচে মজুত রয়েছে। পরিবেশ দূষণের অজুহাতে নিজস্ব কয়লা উত্তোলন না করে ভারত থেকে কয়লা আমদানি করা বা রামপালে ভারতীয় মালিকানায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানো একটি স্ববিরোধী ও ক্ষতিকর নীতি। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আরও বলেন, উৎপাদিত বিদ্যুতের পেছনে ৬০ শতাংশ গ্যাস চলে যাচ্ছে। অথচ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সার কারখানাগুলোতে গ্যাস দেওয়া জরুরি। দেশের সার কারখানাগুলোর বার্ষিক ২২ থেকে ২৬ লক্ষ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও, গ্যাসের অভাবে তারা মাত্র ৪ থেকে ৬ লক্ষ টন উৎপাদন করতে পারছে।

সম্প্রতি চা বাগানের মালিকরা নিজস্ব খরচে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা জানিয়ে সরকারকে সেই জাতীয় সুযোগগুলো নেওয়ার দাবি জানান এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে এই নেতা বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ মিটার অত্যন্ত নিম্নমানের ভারতীয় মিটার দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি গতিতে ঘোরে এবং ভুতুড়ে বিল তৈরি করে। এই মিটারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের করাপ্ট আমলা ও পলিটিশিয়ানদের মতো বিএনপিরও কিছু দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ জ্বালানি খাতকে বন্ধক রেখে লুটপাটের পাঁয়তারা করছেন। আমরা তাদের প্রত্যেকের নাম এবং কে কত টাকা মাসিক বাটোয়ারা নিচ্ছেন তা জানি। আমাদেরকে বাধ্য করবেন না তাদের নাম জনসমক্ষে উন্মোচন করতে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us