ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

বিদেশফেরত মেধাবীদের দেশ গঠনে কাজে লাগাতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬   ১২ বার পঠিত
বিদেশফেরত মেধাবীদের দেশ গঠনে কাজে লাগাতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দেশের উন্নয়নে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশে নিরাপদ, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশে পড়াশোনা শেষে তরুণরা দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন এবং রাষ্ট্র গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীতে ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ফ্যাড-ক্যাব) আয়োজিত ১৪তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন অনেক ব্যক্তি কাজ করছেন, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। সরকারও চায় দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা করুক, তবে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে যেন অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও তরুণ প্রজন্মের জন্য টেকসই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নিরাপত্তা, সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এতে বিদেশফেরত তরুণেরা উদ্যোক্তা হয়ে দেশের উন্নয়নে যুক্ত হতে পারবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা এখন কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি কূটনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে চলমান কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে সরকার সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে ফ্যাড-ক্যাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয় তুলে ধরা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, যৌক্তিক দাবিগুলো লিখিত আকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। বিষয়গুলো শিক্ষা, অর্থ, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীরা যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, সেগুলো দূর করতে সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে।

বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়, টিউশন ফি, বৃত্তি, জীবনযাত্রার ব্যয়, ভিসার শর্ত, রিফান্ড নীতি ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ভর্তি, বৃত্তি, ভিসা কিংবা চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখালে তা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানসম্মত শিক্ষা অর্জন; সেই লক্ষ্য থেকে শিক্ষার্থীদের বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, কিছু অসাধু দালাল চক্র শিক্ষার্থীদের প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে, যার প্রধান দায়িত্ব বিদেশগামী বাংলাদেশিদের অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করা।

তিনি ফ্যাড-ক্যাবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দালাল ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারকে দিলে তা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার এককভাবে নয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় এসব অনিয়ম বন্ধ করতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশে ও বিদেশে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রথাগত শিক্ষাই নয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণেও সরকার জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা পরামর্শক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সঠিক তথ্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে তা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us