ঢাকা
০৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল মিল’ চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী হাজ্জাজ ছাত্রশিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করছে: নাছির উদ্দীন জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি: রাশেদ খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : মাহদী আমিন আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহতদের পাশে দাঁড়াবে সরকার: প্রেস সচিব পুলিশের জারি করা সর্বোচ্চ সতর্কতা শুধু একটি ‘রিমাইন্ডার’: ডিবি প্রধান বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দীর্ঘ হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকে টাকা নেই, দেশে চলছে দলীয় সন্ত্রাস : নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি : জামায়াত আমির দুবাই কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন বেনজীর
Advertise with us

শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান, মোদির ওপর একযোগে আক্রমণ বিরোধীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬   ১২ বার পঠিত
শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান, মোদির ওপর একযোগে আক্রমণ বিরোধীদের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এরই জেরে দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে মোদির ওপর। বিরোধী দলগুলো তার সমালোচনা করে বলেছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করা নয়, বরং তাদের কাছেই মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা করে দেওয়ার’ মন্তব্যের পর নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; বরং দুর্নীতিগ্রস্ত পরীক্ষাব্যবস্থা উপহার দেওয়ার জন্য মোদিরই তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মোদি বলেন, সমাজে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেন। তবে এখন তরুণদের সঠিক পথ দেখানোর সময়।

তিনি বলেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। মানুষ ভুল করতেই পারে। কিন্তু আমাদের মেয়েরা যে এত অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে, এটি সাংস্কৃতিকভাবে হতাশাজনক।”

মূলত জন্তর মন্তরের বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারী মোদিকে লক্ষ্য করে গালাগালি ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন—এমন বিতর্কের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। মোদি বলেন, “জন্তর মন্তরে শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে।”

এর জবাবে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, “সন্তান হারানোর শোকের চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। প্রতিটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাওয়ার পেছনে এমন একটি পরিবার রয়েছে, যারা আজীবন সেই বেদনা বয়ে বেড়াবে। একই সঙ্গে এটি ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নও সামনে এনেছে।”

তামিলনাড়ু সফরে সন্তান হারানো কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাহুল বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে নেওয়া প্রস্তুতি এক রাতেই নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে সৎভাবে পরিশ্রম করতে, অথচ পুরো ব্যবস্থাই অসৎ। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ক্ষমা’ করার কথা বলছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি (মোদি) একজন শোকাহত অভিভাবকের সঙ্গেও দেখা করেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর পাশেও বসেননি। ভারতের শিক্ষার্থীদের তার ক্ষমার প্রয়োজন নেই; তাদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকারের সমালোচনা করলেই যারা এক্সে অশালীন মন্তব্য করে, সেই বিজেপি সমর্থকদেরও কি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন?”

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “দেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করছিল, কিন্তু তিনি উল্টো দেশকেই ক্ষমা করে দিলেন।”

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, “জনগণ কখনওই বিজেপিকে ক্ষমা করবে না। বিজেপি যদি মাটিতে শুয়ে ক্ষমাও চায়, তবুও মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। তাদের এই অহংকারই একদিন সরকার পতনের কারণ হবে।”

শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “মোদি এবং (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত) শাহর শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ, শিক্ষার্থীদের পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এমনকি নারী আন্দোলনকারীদের পোশাকও ছিঁড়ে ফেলেছেন কিছু পুরুষ পুলিশ সদস্য।”

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মোদি সরকার। সরকারের দাবি, তারা জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস (সংশোধনী) বিল পাস করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে, সংসদে তথ্যভিত্তিক ও সুস্থ বিতর্কে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকার দাবি করেছে, অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্যও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ‘একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণেই’ তা সম্ভব হয়নি।

বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, “একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংবেদনশীলতা, অন্যদিকে এই সামন্তবাদী নেতাদের অহংকার স্পষ্ট। তাদের আচরণে হতাশা ও নিরাশারই প্রতিফলন ঘটছে।” সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us