ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই হামলায় ইরানের একটি বিমানবন্দর, একটি রেলওয়ে স্টেশন এবং দুটি সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে বলে শুক্রবার সকালে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতিসহ হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও গুঁড়িয়ে দিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নতুন দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানি ভূখণ্ডে বোমাবর্ষণ করল মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সমৃদ্ধ বুশেহর শহরেও দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ একে মার্কিন শত্রুদের আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে পুরো অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এই হামলার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে মার্কিন ‘বর্বর’ হামলার প্রতিবাদে তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা আহভাজের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দফায় দফায় হওয়া বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার আশঙ্কায় হাসপাতালটি আগেই খালি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে, অন্যদিকে বাহরাইনেও বেজে উঠেছে বিমান হামলার সাইরেন। ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তারা কোনো অবস্থাতেই আপস করবেন না এবং মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে। গত জুন মাসে পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় একটি প্রাথমিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হলেও মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি আবারও বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুতো আবারও কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান সাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অবরোধ অমান্য করায় তিনটি জাহাজকে অন্যত্র ঘুরিয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করার জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার পথ খোলা রাখলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র মুখ বুজে সহ্য করবে না।
সূত্র: এনডিটিভি