ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই যেন সব হিসাব-নিকাশ নতুন করে লেখার মঞ্চ। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরার ট্রফির পাশাপাশি এবার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’-এর ভাগ্যও নির্ধারণ করে দিচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। ক্লাব ফুটবলে আগস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত কে কেমন খেললেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাযজ্ঞের সামনে সেই সমীকরণ যেন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের নাটকীয়তা ব্যালন ডি’অরের রেসে থাকা ফেভারিটদের অবস্থান পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকা রেস থেকে ছিটকে গেছেন, ঠিক তখনই নতুন করে হুঙ্কার দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামরা।
এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বেটফেয়ারের তথ্য অনুযায়ী তার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ। কিন্তু গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনা এক লাফে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ, নিজের সম্ভাবনাকে প্রায় ৯৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা এখন পুরস্কার জয়ের দৌড়ে পঞ্চম স্থানে চলে এসেছেন। মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ের পর তার দল যত সামনে এগোচ্ছে, মেসির নবম ব্যালন ডি’অরের সম্ভাবনাও তত উজ্জ্বল হচ্ছে।
এদিকে সেরার লড়াইয়ে এখনো নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টের আগেও ২০ দশমিক ১১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষে থাকা কেইন বর্তমানে ২২ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট নিয়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন। তবে কেইনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব মৌসুমটা আশানুরূপ না কাটলেও ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে ৭টি গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। চার দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে এক লাফে ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছে কেইনের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন জুড বেলিংহাম এবং আর্লিং হালান্ডও। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কিছুটা হতাশাজনক মৌসুম কাটানো বেলিহামের সম্ভাবনা শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৪ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া আর্লিং হালান্ড ৭ গোল করে নিজের সম্ভাবনাকে ১ দশমিক ৯২ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশে নিয়ে গেছেন। এছাড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সম্ভাবনা কিছুটা বাড়লেও রেসের শীর্ষ তালিকায় চমক দেখাচ্ছেন মাইকেল অলিস।
তবে বিশ্বকাপের আলো যেমন অনেকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে, ঠিক তেমনি ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় থাকা বেশ কয়েকজন তারকাকে ছিটকে দিয়েছে পেছনের সারিতে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ডেকলান রাইস, যার সম্ভাবনা প্রায় ৬৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া দরপতন ঘটেছে কাভারাতসখেলিয়া, রাফিনহা, উসমান ডেম্বেলে এবং হুলিয়ান আলভারেজের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পিএসজির পাঁচজন খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দশে থাকলেও বর্তমানে কেবল যারা বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন, তারাই টিকে আছেন এই মর্যাদার লড়াইয়ে।