ঢাকা
০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৪৫তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরলস কাজ করছে : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী পিপিপি পদ্ধতিতে ঢাকার পাঁচ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে’ এটিই জামায়াতের মূলনীতি: পরওয়ার হারাম এলাকায় যেসব কাজ করা যায় না টানা ৩ মাস রাজপথ পাহারা দিতে বললেন রাশেদ খাঁন ১৩২ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন
Advertise with us

আমি প্রার্থী ছিলাম না, তাই রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হেরেছে: ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬   ৩২ বার পঠিত
আমি প্রার্থী ছিলাম না, তাই রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হেরেছে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্প বলেন, ব্যালটে তার নাম ছিল না বলেই রিপাবলিক পার্টি হেরেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যখন মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে, সেই সময় তিনি এ কথা বলেন।

হোয়াইট হাউসে বসে নির্বাচনের ফলাফল দেখার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নিতে প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা ইতিবাচকভাবেই অপেক্ষা করছি। সম্ভবত আমরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’

মধ্যবর্তী নির্বানের লড়াইয়ে রিপাবলিকানরা বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এলো। ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রযাত্রা ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। সেইসঙ্গে মেয়াদের বাকি সময়ে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোকে জটিল করে তুলতে পারে।

রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে ট্রাম্প ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অত্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহাম ও টেক্সাসের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মতো প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি। তারা দুজনেই সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আমি ফলাফলগুলো দেখছি। দেখলাম ডার্লিন হেরে গেছেন। ভাবা যায়! আচ্ছা, লিন্ডসে যদি নির্বাচনে দাঁড়াতেন, তবে কেমন করতেন বলে আপনার মনে হয়?’ গত জুলাই মাসে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কথা উল্লেখ করে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, তার বিশ্বাস লিন্ডসে গ্রাহাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে খুব সম্ভব জয়ী হতেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশ নিষ্প্রভ শোনাচ্ছিল। দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের খবরগুলো তখন তিনি কেবলই আত্মস্থ করছিলেন।

তবে রিপাবলিকানদের পরাজয় সত্ত্বেও নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কোনো কিছু নিয়েই তার বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই বলে জোর দিয়ে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে এই সময়টিকে আমি সবচেয়ে সফল দুই বছর বলে মনে করি।’

গত এক বছর ধরে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প। এমনকি মঙ্গলবারও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বার্তা পোস্ট করে অ-নাগরিক ভোটারদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেয়, যদিও বাস্তবে এমন ভোটার খুঁজে পেতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে শীর্ষ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে একসঙ্গে বসে নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্যগুলো করেন। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। উপস্থিত কেউ কেউ সেখানকার পরিবেশকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ ও ‘শোকাবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

সন্ধ্যাজুড়ে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একান্ত এই কথোপকথনের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের আগে জনমত জরিপ সম্পর্কে তাকে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য উপদেষ্টাদের অভিযুক্ত করেন ট্রাম্প।

তবে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এর আগেই রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল নির্বাচনি পরিবেশের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন।

অবশ্য হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট তার উপদেষ্টাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন—এমন ধারণা সঠিক নয়।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, ব্যালটে তার নাম না থাকার কারণেই রিপাবলিকানদের এমন পরাজয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম না। আর আমি প্রার্থী না থাকার কারণেই আমরা পর্যাপ্ত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে পারিনি।’

এছাড়া ট্রাম্প আলাদাভাবে মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও লিখেছেন, ‘ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তবে আমরা ভূমিধস জয় পেতাম! বিষয়টিতে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন এবং সুযোগ পেলে ‘আবারও তা-ই’ করবেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ভোটাররা যে অসন্তুষ্ট ছিলেন, সেটি তিনি স্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে তাদের আপত্তি নেই, কিন্তু তারা সম্ভবত তেলের দাম নিয়ে খুশি ছিল না। আসলে এমনটা হতেই পারে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের জন্য আমার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। বস্তুত দেশ ও বিশ্বের ভবিষ্যতের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত।’

ট্রাম্প দাবি করেন, একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে কথা বলতে ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি মনে করেন, সরকারের ঋণসীমা নির্ধারণের বিষয়ে তারা একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘আমার হাতে পূর্ণ ভেটো ক্ষমতা রয়েছে, তাই আমাদের কাছে তাদের আসতেই হবে। আর তাদের কাছে যদি ভালো কোনো প্রস্তাব থাকে, তবে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আমি অবশ্যই উদার।’

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us