ঢাকা
০৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী আবার হামলা চালালে কীভাবে পাল্টা জবাব দেবে ইরান? জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের তিন মামলা, আসামি ৩৬০০ অনুরোধ করছি, আপনারা কাজে ফিরে যান : শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান মানবসেবায় ৭ বার রক্ত দিয়েছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলপিজির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে: গোলাম পরওয়ার
Advertise with us

জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬   ২০ বার পঠিত
জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ফাইল ছবি

বাসস : তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে গ্রান্ট বা অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফরে যাবেন, তিনি দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন।’

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ার ‘আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে।

শামা ওবায়েদ জানান, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্জনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান নগণ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ।

শামা ওবায়েদ বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তাও তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা বলেন, সফরের আগে সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’

এই সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন জোরদার করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর আলোকপাত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে ।

জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন।

তুরস্ক এই কপ৩১ সম্মেলনটি আয়োজন ও সভাপতিত্ব করবে, অন্যদিকে আলোচনা বা দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।

তুরস্ক কপ-৩১-এর আয়োজক ও সভাপতিত্ব করবে। অন্যদিকে আলোচনা কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us