ঢাকা
২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি: শিক্ষামন্ত্রী মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আহ্বান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসায় এবার এডিসের লার্ভা মিললে ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর ইউনিয়নের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের সংকট বাড়ছে: আখতার হোসেন লাশের ওপর নৃত্য করে সভ্য দুনিয়ায় অসভ্যতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ: জামায়াত এমপি পুলিশের কাজ অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা, বিচার করা নয়: সাদিক কায়েম ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন জামায়াতে আমির আইজিপি আলী ফকিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে ‘নতুন বেনজীর’ আখ্যা দিলেন পাটওয়ারী
Advertise with us

‘১০০ বার কেন, বিজয়কে হাজারবার বিয়ে করতে রাজি’

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬   ৫ বার পঠিত
‘১০০ বার কেন, বিজয়কে হাজারবার বিয়ে করতে রাজি’

ছবি: সংগৃহীত

শোবিজ ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ও তার স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে নিয়ে চলা তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে মুখ খুললেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’ শোয়ের নতুন মৌসুমে হাজির হয়ে তাদের প্রেম ও বিয়ের নেপথ্যের গল্প শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছিল কটাক্ষের ঝড়। বিশেষ করে নেতিবাচক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তবে এই সমস্ত কটূক্তি ও ট্রোলের মুখে পিছু না হটে, দীর্ঘ এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে সমালোচকদের সপাটে জবাব দিয়েছেন রাশমিকা।

মূলত ওই চ্যাট শোয়ে সঞ্চালক করণ জোহর তাদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করলে রাশমিকা জানিয়েছিলেন যে তিনিই প্রথম বিয়ের কথা উত্থাপন করেছিলেন। বিমান সফরে বসে বিজয়কে বিয়ের কথা বললেও বিজয় তাকে বিষয়টি আরও ভালো করে ভেবে দেখার জন্য ‘১০০ বার’ বলতে বলেন।

এই কথোপকথন প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা ও মিম যুদ্ধ। নেতিবাচক মানসিকতার কিছু মানুষ দাবি করতে শুরু করেন যে বিজয় নাকি রাশমিকা বিয়েতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না বা তাকে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এই সমস্ত বিকৃত ব্যাখ্যা ও অনলাইন ট্রোলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশমিকা তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের সম্পর্কের গভীরতা না বুঝেই একদল মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

রাশমিকা তার পোস্টে লিখেছেন, ইন্টারনেট দুনিয়ার স্থায়ীভাবে তিক্তমনোভাবাপন্ন মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি তার মনের কথাগুলো বলতে চান। সাধারণত মানুষের বিভিন্ন মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এসবে প্রতিক্রিয়া দেন না, কারণ প্রত্যেকেরই নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ট্রোলিংয়ের ধরন দেখে তার মনে হয়েছে এটি কেবল সাধারণ মতামত প্রকাশ নয়, বরং এটি একটি ক্ষুব্ধ জনতার মতো যারা কেবল কারোর ওপর নিজেদের রাগ উগরে দিতে চাইছে। পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে, যা তাদের বার্তার আসল সারমর্মকে আড়ালে ফেলে দিয়েছে।

তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, ওই কথোপকথনটি আসলে কোনো প্রস্তাবের সংখ্যা বা সময়কাল নিয়ে ছিল না। বরং বিষয়টি ছিল একে অপরকে যথেষ্ট সময় দেওয়া, জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও চাপের মাঝে এই সিদ্ধান্ত সঠিক কি না তা বুঝে নেওয়ার পারস্পরিক বোঝাপড়া। তিনি বলেন, তিনি নিজে ভালো করেই জানতেন যে তিনি জীবনে কী চান, আর বিজয় একটু সময় নিয়ে বাস্তব দিকগুলো ভেবে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন—এতে তাদের ভালোবাসার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ঘাটতি তৈরি হয়নি। তিনি নিজে আবেগপ্রবণ আর বিজয় একজন বাস্তববাদী চিন্তক, আর এই অমিলই তাদের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিয়ের সংজ্ঞা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাশমিকা জানান, তাদের কাছে বিয়ে কোনো আংটিবদল বা হাঁটু গেড়ে বসা প্রথা নয়, বরং একটি জীবন ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে গড়ে তোলার নাম।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভানুধ্যায়ী সেজে যেসব মেয়েরা রিল ভিডিও তৈরি করে তাকে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন রাশমিকা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কঠিন দিনগুলোতে যখন তার জীবনে চরম সংকট চলছিল, তখন ওই উপদেশদাতারা কেউ পাশে ছিলেন না; পাশে ছিলেন একমাত্র বিজয়। তিনি জানান, মাসের নির্দিষ্ট দিনে পেটে ব্যথা হোক, মাঝরাতে আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যাওয়া হোক কিংবা মানসিক অবসাদ—প্রতিটি মুহূর্তে বিজয় তার ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে সুখী ও তৃপ্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

১০০ বার কেন, বিজয়কে হাজারবার বিয়ে করতে রাজি রাশমিকা। তিনি বলেন, এমন একজন মানুষকে খুঁজে নাও যে তোমাকে এত সুন্দরভাবে ভালোবাসবে, যেন বিয়ের পরও তোমার মনে হয়, ‘চলো আমরা আবার বিয়ে করি।’ আমি এমনটা হাজারবার করতে রাজি আছি—১০০ বার তো নেহাৎই কম। আসলেই বিষয়টি এতটুকুই সহজ।

পরিবারকে জড়িয়ে কটূক্তির তীব্র নিন্দা করে রাশমিকা বলেন, তাকে নিয়ে যা খুশি বলা হোক, তিনি তা সহ্য করতে পারেন। কিন্তু না জেনে তার পরিবারকে নিয়ে কথা বলা কোনোভাবেই নারীবাদের পক্ষে যায় না; এটি আসলে নারীবাদের মোড়কে একধরনের জঘন্য বুলিং ছাড়া আর কিছুই নয়। নারীবাদের অর্থ কাউকে নিচে নামানো নয়, বরং নিজের জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। নিজের জীবনের চাবিকাঠি তিনি নিজেই নিজের হাতে রেখেছেন এবং এর বিনিময়ে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

পরিশেষে কন্নড় বন্ধু ও অনুরাগীদের উদ্দেশ্যেও ভালোবাসা প্রকাশ করে রাশমিকা বলেন, ১০ বছর পরও তাদের হৃদয়ে যে তিনি জায়গা করে আছেন, তা ভেবে তিনি ধন্য। যারা ভালোবাসাকে উদ্‌যাপন করেন, তাদের সবার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি সকলকে নিজেদের জীবনে খুশি খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us