ঢাকা
২৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মসজিদের ইমামের যাবজ্জীবন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের আজ জন্মদিন মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: আজহারী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একনেক বৈঠক স্থগিত, পিছিয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা, ২৮ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভ আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে : কর্নেল অলি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে তিন সাংবাদিক বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন : শফিকুর রহমান বিএনপি সংস্কারের কোনো অ্যাজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চায় না : আখতার হোসেন
Advertise with us

‘সালমান খানই ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টাইগার’, এই মন্তব্যেই কি হামলার শিকার টাইগার শ্রফ?

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬   ৩২ বার পঠিত
‘সালমান খানই ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টাইগার’, এই মন্তব্যেই কি হামলার শিকার টাইগার শ্রফ?

ছবি: সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় সামনে এসেছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সালে একটি সিনেমার প্রচার অনুষ্ঠানে সালমান খানের প্রশংসা করে দেওয়া টাইগার শ্রফের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সালমান খানকে ‘ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টাইগার’ বলেছিলেন টাইগার শ্রফ। ওই মন্তব্যই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হামলার পেছনে এটিই চূড়ান্ত কারণ কি না, তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি খেলার মাঠ থেকে ফুটবল খেলে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী। তারা গাড়িটি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর আরেক সহযোগীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

পরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য সামাজিক মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করে বলে জানা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্তদের খুঁজতে তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ। পরে রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশনে জয়পুরগামী একটি ট্রেন থেকে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।

সালমানের সঙ্গে বিরোধের যোগসূত্র

সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে—এমন আলোচনা আগেও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ২০২২ সালের একটি প্রচার অনুষ্ঠানে সালমানের প্রশংসা করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধের পেছনে রয়েছে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলা। ১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে লরেন্স বিষ্ণোই। বিভিন্ন সময়ে অভিনেতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ঘিরে হুমকির ঘটনাও সামনে এসেছে।

ইন্টারনেট কলের সূত্র ধরে তদন্ত

তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার পর পুলিশের গতিবিধি ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিযুক্তদের কাছে তথ্য পৌঁছাচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত রেহানকে বারবার ফোনে কথা বলতে দেখা গেছে। পুলিশের সন্দেহ, ইন্টারনেটভিত্তিক কলের মাধ্যমে হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের সহযোগীদের যোগাযোগ হয়েছিল।

হামলার পর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে তারা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা পুলিশের। তবে একটি সাধারণ ফোনকল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা আন্ধেরি থেকে বোরিভালি পর্যন্ত লোকাল ট্রেনে যায়। পরে একটি ব্যক্তিগত ক্যাব ভাড়া করে গুজরাটের সুরাটের উদ্দেশে রওনা হয়। ক্যাবচালকের সঙ্গে করা ফোনকলের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তাদের যাত্রাপথ শনাক্ত করেন।

মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের একটি দল সুরাটে গিয়ে ক্যাবচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, অভিযুক্তদের সুরাট রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের তালিকা যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা জয়পুরগামী ট্রেনে উঠেছে। এরপর রাজস্থানের কোটায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।

অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে দুই নারী গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গুজরাটের সুরাট থেকে মামলাসংশ্লিষ্ট দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অভিযুক্তদের কাছে কে পৌঁছে দিচ্ছিল এবং হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে আর কারা জড়িত।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us