ছবি: সংগৃহীত
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয় জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সাথে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুন্দেসট্যাগ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন বুন্দেসট্যাগ সদস্য গেরোল্ড ওটেন, মি: জোহান সাথফ ও মিজ উলে শাউস। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজও অংশ নেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার সূচনালগ্ন থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে সর্বতোভাবে সহায়তা করে আসছে।’ ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ‘১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘পরপর তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে দেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।’
স্পিকার আরো বলেন, ‘স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর প্রেক্ষাপটে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার অবদান অনুসরণীয়।’
স্পিকার বলেন, ‘গণতন্ত্রপ্রিয় এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামের কারণেই গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।’
জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও জার্মান প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন স্পিকার।
তিনি জানান, ‘বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে ছয়জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।’ তারা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এ সময় বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্পিকার।
অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।