ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে ইরান। এমনটাই জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এই বৈঠকের লক্ষ্য হলো “অঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করা এবং যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা”। বৈঠকে ইরাকসহ উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান অঙ্গীকারবদ্ধ।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে আসছে। এই দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের তীরবর্তী।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হওয়া এই কৌশলগত প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরিস্থিতির কারণে সামুদ্রিক পরিবহন আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ব্যারেল দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি সিনেম কোসিওগলু জানান, ইরান এখন হরমুজ ইস্যুকে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যেতে চাইছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমেই হওয়া উচিত—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রে।”
তিনি আরও জানান, গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরাকের প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকটি সোমবার ওমানে অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত মাসে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী রুট, মাইন অপসারণ এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এখন তারা দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে অস্থায়ী শিপিং লেনসহ দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নিয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সূত্র: আলজাজিরা