ছবি: সংগৃহীত
ছয়-সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সমান ওজনের একটি কুমড়োর কথা একবার ভাবুন তো! এমনই এক অতিকায় আটলান্টিক কুমড়োর নাম ‘গ্ল্যাডিস’। ১৪ ফুট পরিধি এবং ৫৪৪ কেজি (১,২০০ পাউন্ড) ওজনের এই কুমড়োটি জন্ম নিয়েছে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের এক শখের মালী বেন হোয়াইটের বাগানে।
পেশায় হিটিং ইঞ্জিনিয়ার বেন গত এপ্রিলে বীজ বুনেছিলেন এবং জুনে এতে পরাগায়ন হয়। ১৮ মিটারের একটি পলিটানেলে পরম যত্নে, ফ্যান দিয়ে চারপাশ ঠান্ডা রেখে এবং সঠিক পুষ্টি দিয়ে তিনি গ্ল্যাডিসকে বড় করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বৃদ্ধির চূড়ান্ত পর্যায়ে কুমড়োটির ওজন প্রতি রাতে প্রায় ১৮ কেজি (৪০ পাউন্ড) করে বাড়ত! বেনের মতে, এখানে কোনো জাদু নেই; বরং এটি হলো একটি গাছের জেনেটিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় দেখার চেষ্টা।
উদ্ভিদবিদ্যার ভাষায় কুমড়োকে ফল বলা হলেও, গ্ল্যাডিস কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফল নয়। গত বছর হ্যাম্পশায়ারের স্টুয়ার্ট ও ইয়ান প্যাটন নামের দুই যমজ ভাই ১,২৭৮ কেজি ওজনের কুমড়ো ফলিয়ে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।
এত বড় কুমড়ো দিয়ে আসলে কী হবে? হ্যালোউইন উৎসবের জন্য নয়, চলতি মাসের শেষে গ্ল্যাডিসকে ‘কান্না ইউকে ন্যাশনাল জায়ান্ট ভেজিটেবলস চ্যাম্পিয়নশিপে’ নিয়ে যাবেন বেন। তবে এর সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো, প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘এসেক্স অ্যান্ড হার্টস এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’-এর জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হবে। এর আগে বেনের ফলানো এমন দুটি অতিকায় কুমড়ো ১,১০০ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করেছিল। বিশাল এই কুমড়োটি যে নিছকই একটি প্রদর্শনী নয়, বরং জনকল্যাণের এক দারুণ মাধ্যম—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!