ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপিতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীর ঠাঁই হবে না।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের চুনকুটিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গতকাল শনিবার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চোখ-কান খোলা আছে। মাদকজাতীয় অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকবে, সে যদি আমার দলের বড় নেতাও হয়, তাকে আগে থাপ্পড় দিব, তার পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করব-এটা ওয়াদা করতে পারি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি’তে কেউ মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ীকে ধরলে অনেক সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের অযুহাত দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই এই সমস্যা নিরসনে কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, পাড়ায়-মহল্লায় মুরব্বি ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে একটি তীব্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠলে প্রশাসনও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
কেরাণীগঞ্জের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০-৩০ বছরে কেরাণীগঞ্জের জনসংখ্যা ৪ লাখ থেকে প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় খেলার মাঠের মারাত্মক অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চুনকুটিয়া মাঠসহ বিভিন্ন খেলার মাঠ দখল ও প্লট বাণিজ্যের কারণে সংকুচিত হয়ে গেছে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের আগ্রহ ও ঝোঁক কোন দিকে তা খেয়াল রাখুন। খেলাধুলা, গান-বাজনা বা নাট্যচর্চা কোনোটাই খারাপ নয়। সন্তানদের যার যার প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ দিন, যেন তারা দেশ ও বিশ্বের বুকে সুনাম অর্জন করতে পারে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক ঋণের বোঝা ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে সরকারের অর্থ তহবিলে কিছুটা টান পড়েছে, যার ফলে উন্নয়ন কাজের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে আমরা কোনো অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের কাছে হার মানব না।’ তিনি ২০১৮ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই স্কুলেই বিগত দিনে দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছিল। বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসার যে অপসংস্কৃতি ছিল, তা চিরতরে কবর দিতে হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই আগামী দিনের রাজনীতি ও নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ (জাতীয় সংসদ)-এর সংসদ সদস্য এবং কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ শাখা বিএনপির শীর্ষ নেত্রী অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাঝে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর হাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ক্রীড়াসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূএ : বাসস