ঢাকা
৩০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মদিনার ইসলামের কথা বলে মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাটওয়ারী সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদনহীন স্লিপার কোচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হেফাজত-এনসিপির ‘মহব্বত’ অটুট রাখার অঙ্গীকার ‘দিনে ১০ খুন’ ও বেকারত্ব সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়: চরমোনাই পীর চাঁদাবাজি, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবার ফিরে এসেছে: গোলাম পরওয়ার এখনই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করতে চাই না: সারজিস নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না: ফুয়াদ আর কোনো গুম নয়, কোনো পরিবারকে অপেক্ষায় থাকতে হবে না: রিজভী জ্বালানি সংকট নিরসন দাবির লংমার্চেও এক লাখ লিটার তেল খরচ করবে বিরোধীদল : মীর শাহে আলম
Advertise with us

কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬   ২৩ বার পঠিত
কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে চাওয়া আঞ্চলিক জোটের দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের শি জিনপিং। ইরান ও ভারতের নেতারাও এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান দেশটির রাজধানী বিশকেকে সমবেত হবেন। এই জোটটি রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং মস্কোর মিত্র বেলারুশকে একত্রিত করেছে।

পুতিন ও জিনপিং অতীতে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনগুলোকে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করেছেন। মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনের সাড়ে চার বছর এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর ছয় মাস পর এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

কিরগিজ নেতা সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি ভারতের নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, অন্যান্য নেতাদের পাশাপাশি ইরানের পেজেশকিয়ান ও চীনের শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর তালিকায় থাকা রাশিয়া ও ইরান ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে মস্কো ও বেইজিংকে সতর্ক করেছেন।

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কোতে আকস্মিক সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠকের বিষয়টি সামনে এল। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হয়তো রুশ সমকক্ষদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান বিষয়ে আলোচনা করেছেন।ঐতিহাসিকভাবে এসসিও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি নতুন গতি পেয়েছে।

এর ১০ জন সদস্য ছাড়াও বর্তমানে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি সংলাপ সহযোগী দেশ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া এই দুটি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসসিওর প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীটি অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়। তবে পুতিন ও শি উভয়েই এর শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে বারবার পশ্চিমা-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

গত বছরের সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে শি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ভীতি প্রদর্শনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছিলেন। বিশকেক শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন এসসিও-র কিছু সদস্য রাষ্ট্র বাস্তব যুদ্ধ মূলত চীন, ভারত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে বলেছে, তারা নিজেদের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা আসার সময় থেকেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান নিয়মিতভাবে বলে আসছে, তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তবে পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তার দেশ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপি-কে বলেছেন, তেহরান বিশ্বাস করে এই জোটগুলোতে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সক্ষম হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। কারণ সংকটের সময়ে তেহরানকে তার সমস্যা সমাধানে এই জোটগুলো খুব কমই সহায়তা করেছে।

যদিও এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে, তবে এর সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং জোটটি বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। অন্যদিকে মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য রাশিয়া ও চীন একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যে অঞ্চলটি সম্পদসমৃদ্ধ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক মাঝেমধ্যে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ জটিল অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: এএফপি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us