ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে যেসব খাবারে

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬   ২১ বার পঠিত
নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে যেসব খাবারে

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: এআই

লাইফস্টাইল ডেস্ক : হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পেছনে সাধারণত কোনো একটি খাবার বা একটি অভ্যাসকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, হজমশক্তি, ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা এবং মানসিক চাপ, সবকিছুরই সম্পর্ক রয়েছে।

তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার থাকতে পারে, যেগুলো অতিরিক্ত বা নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিপাকীয় ও হরমোনজনিত সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওস) বা থাইরয়েডের মতো সমস্যা থাকলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব, বারবার ব্রণ, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিলে নিজের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে এসব উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু খাবার বাদ দেওয়ার বদলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

পরিশোধিত বীজ তেল

সয়াবিন, সূর্যমুখী বা ক্যানোলার মতো পরিশোধিত বীজের তেল শুধু রান্নাতেই নয়, বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারেও থাকতে পারে। ফলে নিজের অজান্তেই এগুলোর ব্যবহার বেড়ে যায়। খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাট থাকলেও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার কম থাকলে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাছ, বাদাম ও বীজের মতো পুষ্টিকর উৎস খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।

অতিরিক্ত চিনি

শুধু মিষ্টি বা চকলেট নয়, কেচাপ, ফ্লেভারযুক্ত দই, গ্র্যানোলা কিংবা বিভিন্ন প্যাকেটজাত ‘হেলদি’ খাবারেও বাড়তি চিনি থাকতে পারে। অতিরিক্ত চিনি নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইনসুলিন প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবার কেনার সময় শুধু ক্যালোরি নয়, লেবেলে যোগ করা চিনির পরিমাণও দেখে নেওয়া উচিত।

দুগ্ধজাত খাবার

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারকে হরমোনের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর বলা ঠিক নয়। কিছু গবেষণায় বিশেষ করে ফ্যাটহীন দুধ ও আইজিএফ-১-এর মাত্রার মধ্যে সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার ব্রণ বাড়াতে পারে। তবে সবার শরীরে এর প্রভাব এক নয়। তাই সমস্যা না থাকলে হঠাৎ করে সব দুগ্ধজাত খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কৃত্রিম মিষ্টি

চিনি কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকে কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহার করেন। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কৃত্রিম মিষ্টিকারক হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মিষ্টি স্বাদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রয়োজন হলে পরিমিত ব্যবহার করাই ভালো।

সয়াবিন পণ্য

টোফু, টেম্পে বা এডামামের মতো গোটা সয়া খাবার সাধারণত পুষ্টিকর এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে সয় প্রোটিন আইসোলেটের মতো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সয়া উপাদান অনেক প্রোটিন বার ও শেকে থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে সয়া-জাতীয় সাপ্লিমেন্ট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কোনো একটি খাবার বাদ দেওয়াই সমাধান নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ-সব মিলিয়েই সুস্থ জীবনযাপন গড়ে ওঠে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us