ঢাকা
২৯ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

আরও একটা বিপর্যয় আসছে?

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬   ২৫ বার পঠিত
আরও একটা বিপর্যয় আসছে?

ছবি: সংগৃহীত

চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়তে শুরু করেছে। চীন ও নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গঠিত এই বিপজ্জনক হ্রদটির কারণে নতুন করে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বন্যা দেখা দিতে পারে বলে চরম সতর্কবার্তা জারি করেছে চীন কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সব ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ওই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো সীমান্তজুড়ে হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে গতি আনার চেষ্টা চালানো হলেও কৃত্রিম এই দেওয়ালের কারণে গঠিত হ্রদটির পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়, হ্রদটির পানি উপচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পাহাড় ভেঙে পড়া এবং তুষারধসের মারাত্মক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই কারণে দুর্ঘটনা স্থলে নিয়োজিত উদ্ধারকারী দলের সব সদস্য ও উদ্ধারকারী যান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

হ্রদটির ওপর নজরদারির দায়িত্বে থাকা চীনা প্রকৌশলী দলের মতে, দেওয়ালটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাত্র একদিন আগে যেখানে পানি জমা ছিল প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার, তা এক লাফে বেড়ে ২৫ লাখ ঘনমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ৮ সদস্যের প্রকৌশলী দল স্থানটি পর্যবেক্ষণ ও এর থ্রিডি মডেলিং তৈরি করতে ড্রোন এবং আকাশপথের জরিপ সম্পন্ন করেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং হ্রদের চারপাশে নতুন করে তৈরি হওয়া খাড়া ও বিপজ্জনক পাহাড়ের কারণে সেখানে কাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে বাঁধের একটি অপেক্ষাকৃত নিচু স্থান দিয়ে ড্রেন তৈরি করে পানি বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দ্রুত পানির বৃদ্ধি সেটিকে অসম্ভব করে তুলছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জিরোং সীমান্ত বন্দর এলাকায় সাম্প্রতিক হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের মাটি ও পাথর আরও শিথিল হয়ে পড়েছে, যা বাঁধটির স্থায়িত্বকে পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহে এলাকাটিতে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে এসে জমা হবে। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই এই অস্বাভাবিক পানিপ্রবাহ তুঙ্গে পৌঁছাবে, যা হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে ভয়াবহ বিপদের সৃষ্টি করতে পারে। ভিডিও চিত্রেও দেখা গেছে, পানি দ্রুত বেড়ে আশপাশের ঝোপঝাড় ও গাছপালা তলিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us