ঢাকা
২১ আগস্ট ২০২৬
Advertise with us

পশ্চিম তীরে ১২০০ বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের উদ্যোগ, পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দা

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬   ১৮ বার পঠিত
পশ্চিম তীরে ১২০০ বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের উদ্যোগ, পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় এক হাজার ২০০ বসতি নির্মাণের লক্ষ্যে ইসরায়েলের দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা এই উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই বসতিগুলো অবৈধ। বিশ্বজুড়ে চাপের কারণে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমের ‘ই-১’ এলাকায় বসতি নির্মাণের কাজ বন্ধ রেখেছিল।

ইসরায়েলের অনেক মিত্র এবং ফিলিস্তিনিদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। কারণ এটি পশ্চিম তীরকে দুই টুকরো করে দেবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় মিত্র কয়েকটি দেশ ও কানাডার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতিও সংকটে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে ইসরায়েলের এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করবে।

পৃথক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, ‘ই-১’ পরিকল্পনা একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথে ‘অস্তিত্বের সংকট’ তৈরি করবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই ঘটনায় যে নিন্দা জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ফিলিস্তিনি বেদুইন ও ইসরায়েলি শান্তিকামী গোষ্ঠীগুলোর আইনি বাধা উপেক্ষা করেই গত বুধবার ইসরায়েল ১ হাজার ২৩৪টি নতুন বসতি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে।

এটি মূলত গত আগস্টে ইসরায়েল সরকার অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের একটি অংশ। এই প্রকল্প পূর্ব জেরুজালেম এবং ‘মালে আদুমিম’ বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এই পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাটি এখন ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।

দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সরকারের পক্ষে এই টেন্ডার বা দরপত্র বাতিল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে বর্তমানে ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছে।

ফিলিস্তিনিরা গাজা উপত্যকাসহ এই ভূখণ্ড নিয়ে তাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে চান। বর্তমানে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি আনুমানিক ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। তীব্র আন্তর্জাতিক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও একের পর এক ইসরায়েলি সরকার এই বসতিগুলো সম্প্রসারণের অনুমতি দিয়ে আসছে।

২০২২ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই বসতি সম্প্রসারণের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

‘ই১’ প্রকল্পের বিরোধীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি কার্যত একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ বন্ধ করে দেবে। কারণ এটি পশ্চিম তীরের উত্তর অংশকে দক্ষিণ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এবং রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যে সংযোগকারী একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলার পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us