ছবি: সংগৃহীত
কয়েক দিন আগেই ভারতের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বা ‘জেনারেশন গটার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেওয়া বলিউড অভিনেত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত হঠাৎ করেই নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন। দেশের নতুন প্রজন্মকে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত জেন-জি তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের ‘দেশবিরোধী’ না বলার আহ্বান জানানোর ঠিক পরদিনই সুর বদলালেন হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের এই বিজেপি এমপি।
শুক্রবার ভারতের সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কঙ্গনা বলেন, ‘জেন-জি তরুণরা আমাদের দেশের শক্তি এবং এক অর্থে আমাদের জাতির অনেক বড় সম্পদ। আমাদের তরুণসমাজ যেভাবে ক্রমবর্ধমান হারে দেশের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার প্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ এ সময় আরএসএস প্রধানের মন্তব্যের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মোহন ভাগবতজির বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়েছি, যাকে আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র মনে করি এবং তার প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমরা লাভবান হয়েছি। দেশের যুবসমাজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গ্রহণ করছে, এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।’
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা করেন কঙ্গনা। দিল্লিতে যন্তর মন্তরে কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ব্যানারে আয়োজিত সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে নিজের মন্তব্যের পর তোপের মুখে পড়লেও এদিন তিনি ঝাড়খণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী এবং অলিম্পিক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তা উৎসর্গকারী অ্যাথলেটদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
নিজের আগের কঠোর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই বলিউড তারকা দাবি করেন, কতিপয় মানুষের জন্য পুরো প্রজন্মের নাম খারাপ হচ্ছে। কঙ্গনার ভাষ্যমতে, জেন-জি তো সরকারেরই অংশ। এটি তাদেরই দেওয়া জনরায়, যা আমাদের সরকার বহু বছর ধরে বাস্তবায়ন করে আসছে। জেন-জি তরুণরা চমৎকার। গালাগালি দেওয়া ওই ১০-১৫ জন লোক কিন্তু পুরো জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। মূলত গুটি কয়েক ব্যক্তিই পুরো জেন-জি শব্দটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের তরুণরা আমাদের নিজেদেরই নতুন প্রজন্ম এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে কোনো দাবি বা প্রতিবাদের কথা তুলে ধরে, তবেই তাদের গায়ে ঢালাওভাবে ‘দেশবিরোধী’ তকমা লেপে দেওয়া যাবে না।
ভাগবতের এই ইতিবাচক বার্তার পরপরই কঙ্গনার এই ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে যন্তর মন্তরের জেন-জি বিক্ষোভের একটি ভিডিও প্রকাশ করে কঙ্গনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ব্যবহৃত ভাষার সমালোচনা করে তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘আমি আমার জীবনে এক জায়গায় এত কদর্য রূপ আর কখনো দেখিনি। জেন-জি বিক্ষোভের এসব ভিডিও ও রিলস দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে তা অত্যন্ত জঘন্য ও অশোভন। কারা এদের জন্ম দিচ্ছে আর মানুষ করছে?’ শুধু তাই নয়, পশ্চিমা ধাঁচে বেড়ে ওঠা এসব তরুণীকে লক্ষ্য করে সে সময় কঙ্গনা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বা ‘জেনারেশন গটার’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।
তবে আরএসএসপ্রধানের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের পর সেই আগের কঠোর অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসলেন বিতর্কিত এই বিজেপি এমপি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস